ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন
ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন, ঈদযাত্রায় বাড়ছে নিরাপত্তা নজরদারিআসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঈদযাত্রার সময় সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সম্ভাব্য যানজট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।[TECHTARANGA-POST:1433]সরকারি নির্দেশনার আলোকে নেওয়া এই উদ্যোগে রাজধানীর ব্যস্ততম কয়েকটি এলাকা ছাড়াও সাভার ও গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের একসঙ্গে শহর ছাড়ার কারণে প্রতি বছরই সড়কে চাপ বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই আগেভাগে মাঠে নামানো হয়েছে এই বাহিনীকে।কোন কোন এলাকায় থাকবে বিজিবিবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা এবং গাজীপুর চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।এসব এলাকা সাধারণত ঈদের আগে অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীর চাপে অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় থাকে। বিশেষ করে গাজীপুর চৌরাস্তা, বাইপাইল ও নবীনগর অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ঈদযাত্রার অন্যতম বড় ভোগান্তির জায়গা হিসেবে পরিচিত। ফলে এসব পয়েন্টে বাড়তি নিরাপত্তা ও যান চলাচল তদারকিতে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।এ ছাড়া রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এই সড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।মোবাইল কোর্টেও সহায়তা করবে বিজিবিকেবল টহল বা নিরাপত্তা দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বিজিবির ভূমিকা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন টোল প্লাজা, মহাসড়ক এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পরিচালিত মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমেও সহায়তা করবে বিজিবি সদস্যরা।সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সড়ক দখল, অবৈধ পার্কিং কিংবা ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলের মতো অভিযোগ ওঠে। এসব নিয়ন্ত্রণে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি।তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপরিকল্পনা বা কতসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে— সে তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।ঈদের আগে শুরু, চলবে ঈদের পরওবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঈদের সাত দিন আগে থেকে শুরু করে ঈদের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি সদস্যরা। অর্থাৎ পুরো ঈদ মৌসুমজুড়েই সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে থাকবে বাড়তি নজরদারি।[TECHTARANGA-POST:1415]প্রশাসনের ধারণা, ঈদের আগের শেষ তিন থেকে চার দিন সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়। তখন রাজধানী ছাড়তে শুরু করেন লাখো মানুষ। একইসঙ্গে ঈদের পর ফেরার সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই দুই দিক বিবেচনায় রেখেই দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠে রাখা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।প্রতি ঈদেই কেন বাড়ে ভোগান্তি?বাংলাদেশে ঈদ মানেই বড় পরিসরে মানুষের যাতায়াত। রাজধানীকেন্দ্রিক কর্মজীবী মানুষের বিশাল অংশ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে যান। কিন্তু সেই তুলনায় মহাসড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা এখনো সীমিত বলে মনে করেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, একই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ রওনা হওয়ায় সড়কে চাপ বাড়ে কয়েক গুণ। এর সঙ্গে যোগ হয় সড়ক মেরামত, দুর্ঘটনা, অবৈধ থামানো কিংবা অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল। ফলে অল্প সময়েই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।সামাজিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ঈদযাত্রা শুধু ভ্রমণ নয়, এটি মানুষের আবেগের সঙ্গেও জড়িত। তাই যাত্রাপথে ভোগান্তি বা অনিরাপত্তা তৈরি হলে সেটি দ্রুত জনঅসন্তোষে রূপ নিতে পারে। এ কারণেই সরকার সাধারণত ঈদের আগে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কীরাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল এলাকায় কথা বলা কয়েকজন যাত্রী বলেন, ঈদের সময় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। অনেক সময় অতিরিক্ত যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। আবার কোথাও কোথাও ছিনতাই বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগও ওঠে।তাদের প্রত্যাশা, কেবল বাহিনী মোতায়েন করলেই হবে না, বাস্তবে যেন যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বলছেন, মাঠপর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে টোল প্লাজা ও মহাসড়কের প্রবেশমুখগুলোতে কার্যকর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।[TECHTARANGA-POST:1366]নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জপ্রতিবছর ঈদের সময় বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারির ঘোষণা এলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকে যায়। কোথাও কোথাও অভিযোগ ওঠে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা সমন্বয়হীনতার। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার আগেভাগেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যাতে ঘরমুখো মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
এখন দেখার বিষয়, মাঠপর্যায়ে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয় এবং সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তিতে ঈদযাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন।