ডামুড্যায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার অভিযোগ, স্কুলের ক্রীড়া অনুষ্ঠান পণ্ড
পতাকা তুলতেই শুরু উত্তেজনা, মুহূর্তেই ভেঙে গেল উৎসবের পরিবেশজাতীয় সংগীত বাজছে, শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে—ঠিক সেই সময়েই হঠাৎ করে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। শরীয়তপুরের ডামুড্যায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যে উৎসবের মাঠ পরিণত হয় বিশৃঙ্খলায়, বন্ধ হয়ে যায় পুরো আয়োজন।আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ৩৬ নম্বর মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কারা ছিল মাঠে, কীভাবে শুরু হলো অনুষ্ঠানবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তইউনিয়ন প্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উপলক্ষে সকাল থেকেই মাঠে ছিল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভিড়।[TECHTARANGA-POST:1389]অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদি জিল্লু, প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিলসহ অন্যান্য অতিথিরা। তিনি একই সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও আছেন।জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক তখনই হঠাৎ করে একদল লোক সেখানে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। “হঠাৎ বাঁশ নিয়ে হামলা”—চাঞ্চল্যকর অভিযোগপ্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জসিম ব্যাপারী, তাঁর ছেলে সিয়ামসহ কয়েকজন হঠাৎ করে বাঁশ নিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালান।এই ঘটনায় সেখানে থাকা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চেয়ারম্যানকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিলও আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন।ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। “দুই দফা হামলায় বন্ধ হয়ে যায় অনুষ্ঠান”—শিক্ষার্থীরা হতাশপ্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন,
পাঁচটি বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছিল। কিন্তু পতাকা উত্তোলনের সময়ই প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আবার চেষ্টা করলে দ্বিতীয় দফা হামলায় পুরো অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, শিশুদের সামনে এমন ঘটনার কারণে পুরো পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায় এবং তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যে ভিন্ন চিত্রঅভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা জসিম ব্যাপারী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন,
চেয়ারম্যান আব্দুল হাদি জিল্লু অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। পূর্ব বিরোধের কারণেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।তবে তিনি সরাসরি হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন।[TECHTARANGA-POST:1398]এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।ডামুড্যা থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন এমন ঘটনা বারবার ঘটছে? সামাজিক বিশ্লেষণস্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ নয়—বরং এর পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সামাজিক প্রভাব বিস্তার এবং ব্যক্তিগত বিরোধ কাজ করছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ রাজনৈতিক কাঠামোয় “ক্ষমতার প্রদর্শন” অনেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যেও ঢুকে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীরা।মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রতি নেতিবাচক ধারণা জন্ম নেয়।এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি এবং দ্রুত সমাধান না হওয়া বিরোধও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।[TECHTARANGA-POST:1401] মাঠে থাকা মানুষের প্রশ্ন—উৎসব কেন সহিংসতায় শেষ?অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা অনেক অভিভাবক প্রশ্ন তুলেছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে এমন পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো।
তাদের মতে, শিশুদের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তে এমন ঘটনা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা দেয়।