দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

রুমানা সাঞ্জ

রুমানা সাঞ্জ

স্টাফ রিপোর্টার


উত্তরা লিবার্টি ক্লাবে র‌্যাবের অভিযান, ৪৭০ লিটার মদ-বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর উত্তরা লিবার্টি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ ও ক্যান বিয়ার উদ্ধারের দাবি করেছে র‌্যাব-১। এ সময় ক্লাবের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‌্যাবের হিসাবে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ৪৭০ দশমিক ৮৬ লিটার এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১২ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডের আজিজ স্কয়ারে অবস্থিত উত্তরা লিবার্টি ক্লাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।র‌্যাব-১ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ক্লাবের পঞ্চম তলায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কক্ষ থেকে বিদেশি বিয়ার ক্যান এবং দেশি-বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়।অভিযানে মোট ৭৭৯টি বোতল ও ক্যান জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মোট পরিমাণ ৪৭০ দশমিক ৮৬ লিটার।র‌্যাবের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা মদ ও বিয়ারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা।গ্রেপ্তার দুইজন ক্লাবের কর্মীঅভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ রাসেল, বয়স ২৮ বছর; তিনি উত্তরা লিবার্টি ক্লাবের সহকারী ম্যানেজার।মোঃ নয়ন মিয়া, বয়স ৩৮ বছর; তিনি একই ক্লাবের কম্পিউটার অপারেটর।তাদের বিরুদ্ধে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। র‌্যাবের অভিযোগ বা প্রাথমিক তদন্তের তথ্যকে আদালতের রায় হিসেবে দেখা যাবে না।র‌্যাব-১ আরও জানায়, অভিযান চলাকালে ক্লাবের সভাপতি, কয়েকজন কর্মচারী এবং আরও কিছু ব্যক্তি র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তাদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।অভিযানকালে ক্লাবের মাদক সংরক্ষণ, বিক্রি বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।র‌্যাব-১ জানিয়েছে, মাদক চোরাকারবার ও অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। উত্তরা লিবার্টি ক্লাব থেকে গ্রেপ্তার দুইজন এবং জব্দ করা মাদকদ্রব্য আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের উৎস, সরবরাহকারী এবং ক্লাবের ভেতরে এর ব্যবহার বা বিক্রির ধরন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব, বার ও বিনোদনকেন্দ্রে মাদক সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলে শুধু কর্মচারী গ্রেপ্তারের মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী ও অর্থনৈতিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা জরুরি।একটি প্রতিষ্ঠানে মাদক পাওয়া গেলে সেখানে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা, মাদক সংরক্ষণের অনুমতি, বিক্রির নেটওয়ার্ক এবং নিয়মিত নজরদারির বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।গুরুত্বপূর্ণ দিকউত্তরা লিবার্টি ক্লাবে র‌্যাব-১ অভিযান চালিয়েছে।৭৭৯টি বোতল ও ক্যান উদ্ধার করা হয়েছে।উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ৪৭০ দশমিক ৮৬ লিটার।আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা।ক্লাবের সহকারী ম্যানেজার ও কম্পিউটার অপারেটর গ্রেপ্তার হয়েছেন।ক্লাবের সভাপতি ও কয়েকজন কর্মচারী পালিয়ে যাওয়ার দাবি করেছে র‌্যাব।গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলেও শুধু উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, অর্থের লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার ভূমিকা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।একই সঙ্গে কোনো অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে আদালতের রায় হওয়ার আগে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হবে।উত্তরা লিবার্টি ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মদ ও বিয়ার উদ্ধারের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ও বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত জোরদার হতে পারে।এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—উদ্ধার করা মাদক কোথা থেকে এসেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ক্লাবের ভেতরে কীভাবে এসব রাখা বা ব্যবহার করা হতো। তদন্ত শেষে এসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হতে পারে।

উত্তরা লিবার্টি ক্লাবে র‌্যাবের অভিযান, ৪৭০ লিটার মদ-বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ২