দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

মিয়ানমারে পাচারের পথে ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ, আটক ৯

সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্বে গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় একটি বোটসহ নয়জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা সারের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।কোস্টগার্ডের দাবি, সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।কোস্টগার্ড জানায়, শনিবার দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে গভীর সমুদ্র এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল তাদের একটি দল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় সার পাচারের তথ্য পায় তারা।পরে সন্দেহজনক একটি বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে বোটটি থামার পরিবর্তে পালানোর চেষ্টা করে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।এরপর অভিযানিক দল ধাওয়া দিয়ে গভীর সমুদ্রে বোটটি জব্দ করে। বোটে তল্লাশি চালিয়ে ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। এ সময় বোটে থাকা নয়জনকে আটক করা হয়।কোস্টগার্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি সারের হিসাবি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৫ টাকা।পাচারের কাজে ব্যবহৃত বোটটিও জব্দ করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, সারের উৎস এবং চালানটি কোথা থেকে রওনা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জব্দ করা সার, বোট এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।ইউরিয়া সার কৃষি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। দেশের কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা বা ভর্তুকির আওতায় বিক্রি হওয়া সার যদি অবৈধভাবে দেশের বাইরে চলে যায়, তাহলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এই ঘটনায় জব্দ করা সার ভর্তুকির আওতায় ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।সার পাচারের ঘটনা শুধু পণ্যের অবৈধ পরিবহন হিসেবে দেখার বিষয় নয়। এর সঙ্গে সারের উৎস, পরিবহনব্যবস্থা, ক্রয়-বিক্রয়ের নথি এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের ভূমিকার বিষয়ও জড়িত। এসব তথ্য যাচাই করা গেলে চালানটি কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা বোঝা সহজ হবে।এই ঘটনায় কয়েকটি বিষয়ের উত্তর পাওয়া জরুরি। প্রথমত, জব্দ করা সার কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, চালানটির প্রকৃত গন্তব্য মিয়ানমার ছিল কি না, সে বিষয়ে কী প্রমাণ পাওয়া গেছে। তৃতীয়ত, আটক ব্যক্তিরা নিজেরা এই পরিবহনের সঙ্গে কতটা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না।এ ক্ষেত্রে বোটের নথি, সারের বস্তার চিহ্ন, পরিবহনের কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। এগুলো সম্ভাব্য তদন্তের বিষয়; এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।সার কৃষকের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই সার অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার হয়ে থাকলে তা ঠেকানো কৃষি উপকরণের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে সারের উৎস ও চালানের প্রকৃত গন্তব্য নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নির্দোষ কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা না হয় এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসে।গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো একনজরে:স্থান: সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে গভীর সমুদ্র এলাকা।জব্দ: ১০ হাজার কেজি বা ১০ টন ইউরিয়া সার।আটক: নয়জন।সারের আনুমানিক মূল্য: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।কোস্টগার্ড জানিয়েছে, জব্দ করা সার, বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

মিয়ানমারে পাচারের পথে ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ, আটক ৯