অস্ট্রেলিয়ায় এমআইএসটি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী, প্রবাসে জেগে উঠল ক্যাম্পাস স্মৃতি
প্রবাসে থেকেও শিকড়ের টান কতটা গভীর হতে পারে—তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ায়। Military Institute of Science and Technology (এমআইএসটি)-এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো দেশটির মেলবোর্ন শহরে আয়োজন করলেন এক প্রাণবন্ত পুনর্মিলনী, যেখানে দীর্ঘদিন পর ফিরে এল পুরোনো ক্যাম্পাস জীবনের হাসি, আড্ডা আর স্মৃতি।এই আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রবাসে ছড়িয়ে থাকা বন্ধুদের একত্রিত হওয়ার এক আবেগঘন মিলনমেলা হিসেবে রূপ নেয়।মেলবোর্নে প্রথম বড় পরিসরের আয়োজনগত শনিবার মেলবোর্ন শহরে এমআইএসটি অ্যালামনাই সোসাইটি–অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ায় এমআইএসটি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম বড় পরিসরের আয়োজন।আয়োজকদের মতে, দেশের বাইরে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন সমাবেশ পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।[TECHTARANGA-POST:1055]শতাধিক নিবন্ধনে উৎসবমুখর পরিবেশআয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের পুনর্মিলনীতে মোট ১০১টি নিবন্ধন আসে। এর মধ্যে New South Wales থেকে ৩৫ জন, Victoria থেকে ৬১ জন এবং South Australia থেকে ৫ জন অংশ নেন।দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই উপস্থিত হন। কেউ আসেন কয়েক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে, আবার কেউ দীর্ঘদিনের ব্যস্ততা সামলিয়ে এই মিলনমেলায় যুক্ত হন।দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের দেখা, আবেগে ভাসেন অংশগ্রহণকারীরাঅনুষ্ঠানস্থলে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র—হাসি, আলিঙ্গন আর আবেগঘন স্মৃতিচারণে ভরে ওঠে পুরো পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় অনেকেই ফিরে যান বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দিনগুলোতে।অনেকে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুম, হোস্টেল জীবন, প্রজেক্ট ও পরীক্ষার চাপের স্মৃতি শেয়ার করেন। আবার কেউ ভবিষ্যতে একসঙ্গে পেশাগতভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।সাংস্কৃতিক আয়োজন ও আনন্দঘন পরিবেশসন্ধ্যা জুড়ে ছিল নানা ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সংগীত, নৃত্য এবং আড্ডায় পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে এক প্রাণবন্ত উৎসবে।অনেক অংশগ্রহণকারী জানান, এই আয়োজন যেন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ তৈরি করেছিল। প্রবাসে থেকেও মাতৃভূমির সংস্কৃতি ও বন্ধনকে অনুভব করার সুযোগ পেয়েছেন তারা।[TECHTARANGA-POST:1039]আয়োজকদের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাআয়োজকরা জানান, প্রবাসে থাকা এমআইএসটি প্রাক্তনদের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করাই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।তাদের মতে, এমন আয়োজন শুধু স্মৃতিচারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয়, পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরি এবং ভবিষ্যতে বড় পরিসরের কমিউনিটি কার্যক্রম গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ভবিষ্যতে এই পুনর্মিলনীকে নিয়মিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তারা।এমআইএসটি ও প্রবাসে বিস্তৃত নেটওয়ার্কপটভূমিতে জানা যায়, Military Institute of Science and Technology (এমআইএসটি) বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সামরিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলেও এখানে বেসামরিক শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান।দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও গবেষণা খাতে এমআইএসটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ফলে বিশ্বজুড়ে তাদের একটি শক্তিশালী পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে।অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের উপস্থিতিগত এক দশকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের অ্যালামনাই সংগঠনগুলোও ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে উঠছে।এমআইএসটি প্রাক্তনদের এই পুনর্মিলনী সেই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।প্রবাসে শিকড়ের টান আরও গভীরঅনেক অংশগ্রহণকারী জানান, প্রবাসে ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এমন আয়োজন তাদের মানসিকভাবে দেশের সঙ্গে যুক্ত রাখে। এটি শুধু সামাজিক মিলন নয়, বরং একটি আবেগঘন বন্ধনের পুনর্জাগরণ।একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, “এখানে এসে মনে হয়েছে আমরা আবারও আমাদের সেই ক্যাম্পাস জীবনে ফিরে গেছি।”[TECHTARANGA-POST:1035]শেষ কথা
অস্ট্রেলিয়ায় এমআইএসটি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই প্রথম পুনর্মিলনী প্রবাসে থেকেও শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখার এক সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।