জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও ডিজেলে ৭০ টাকা লোকসান: রিজভী
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের খরচ প্রায় ২০৫ টাকা হলেও এতদিন দেশে তা ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছিল। সম্প্রতি দাম সমন্বয়ের পর ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও লোকসান পুরোপুরি কাটেনি। এখনো প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান থাকছে বলে দাবি করেন তিনি।আলোচনা সভায় রিজভী প্রতিবেশী ও বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দামের তুলনাও তুলে ধরেন।তিনি বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।রিজভীর বক্তব্য, এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ডিজেলের দাম কম রাখা হয়েছিল।রিজভী বলেন, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। সম্প্রতি ২০ টাকা দাম সমন্বয় করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান রয়ে গেছে।তাঁর বক্তব্যে মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যকে সরকারের লোকসানের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান এবং মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।ডিজেলের দাম সমন্বয়ের পরও সরকারের লোকসান থাকার দাবি করেছেন রুহুল কবির রিজভী।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছিল।দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান থাকছে বলে তিনি দাবি করেছেন।আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও বিভিন্ন দেশের খুচরা দামের তুলনাও তিনি তুলে ধরেছেন।জ্বালানি তেলের মূল্য পরিবর্তনের প্রভাব পরিবহন ও অন্যান্য খাতে পড়তে পারে।জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ও শুল্কসহ একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখে। ফলে শুধু খুচরা বিক্রয়মূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজারদর তুলনা করে সরকারের প্রকৃত লোকসান নির্ধারণ করা যায় না; এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় ও রাজস্ব কাঠামোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।রিজভীর বক্তব্যে যে ২০৫ টাকা আমদানি/ক্রয় ব্যয় এবং ৭০ টাকা লোকসানের হিসাব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তাঁর উপস্থাপিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সরকারি হিসাব, আমদানি ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য প্রকাশিত হলে জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের প্রকৃত আর্থিক প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।