মালয়েশিয়ায় আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ছয় দিনের সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, এ সফরে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি আঞ্চলিক সম্মেলন ও সেমিনারে অংশ নেবেন, যেখানে ইসলামী সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। তার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে সফরের তথ্যজামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সফরের বিষয়টি জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1231]দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিভিন্ন ইসলামী চিন্তাধারা ও সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা।গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে বক্তব্য দেবেনবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার মালয়েশিয়াভিত্তিক International Institute of Advanced Islamic Studies আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখবেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।সেমিনারের আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে— “এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইসলামী কৌশলগত সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ: অগ্রযাত্রার পথ”। সেখানে আঞ্চলিক বাস্তবতা, মুসলিম সমাজের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ইসলামি গবেষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেবেন। যদিও আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগাযোগ ও কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়াতে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন আঞ্চলিক ফোরামগুলোতে বেশি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। জামায়াতের এই সফরও সেই প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কেবল এটুকু বলা হয়েছে, সফরটি “আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ”।দেশের রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আন্তর্জাতিক সফরগুলো প্রায়ই নানা আলোচনা তৈরি করে। বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বিদেশে সম্মেলন বা কূটনৈতিক ধরনের বৈঠকে অংশ নিলে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল দেখা যায়।[TECHTARANGA-POST:1237]বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে এ ধরনের সম্মেলন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান তৈরির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য স্বাভাবিক কূটনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ, এটিকে অতিরিক্ত রাজনৈতিক অর্থে দেখার সুযোগ কম।কবে ফিরবেন দেশেদলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ছয় দিনের সফর শেষে আগামী ২০ মে সকালে দেশে ফেরার কথা রয়েছে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের।
সফর শেষে তিনি সম্মেলনের অভিজ্ঞতা, আলোচনার বিষয়বস্তু এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে দলের ভেতরে মতবিনিময় করতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।