দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

জাতিসংঘে প্রথম দিনে ১০ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী, পেলেন ৩ দেশ সফরের আমন্ত্রণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে ব্যস্ত দিন পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের প্রথম দিনে নির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে ১০টিতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন তিনি। এদিন ভুটান, মালদ্বীপ ও তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিনের ভাষ্য, প্রথম দিনের কর্মসূচিতে বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়, রোহিঙ্গা সংকট এবং উন্নয়ন সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে এসেছে।নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিপ্লোম্যাট সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন প্রথম দিনের কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।তিনি জানান, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। সময়স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে ইউরোপীয় কাউন্সিল ও মেটার সঙ্গে বৈঠক—এই দুটি কর্মসূচিতে তিনি সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি।দিনের শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতঃরাশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে এ আয়োজন করা হয়। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী অধিবেশনেও অংশ নেন তিনি।প্রথম দিনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে তার বৈঠক হয়।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুটান, মালদ্বীপ ও তুরস্কের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতাসহ দুই দেশের সামগ্রিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতে এই অংশীদারত্ব আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির।প্রথম দিনের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্ব পেয়েছে। মাহদী আমিন জানান, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিদের এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তেল, গ্যাস ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে তৈরি বৈদেশিক অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে সহায়তা বাড়াতে বিশ্বব্যাংক সম্মত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনার বিষয় ছিল।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে মেটার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার মনোনীত একটি উচ্চপর্যায়ের দল বৈঠকটি করেছে।বাংলাদেশে মেটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনায় বাংলাদেশ-মেটা সম্পর্ক ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উঠে আসে বলে জানান তিনি।প্রথম দিনের কর্মসূচিগুলোতে রোহিঙ্গা সংকট, উন্নয়ন সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মতো বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। ফলে নিউইয়র্ক সফরে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতাও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।এখন সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে সামনে রয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। বৃহস্পতিবার তিনি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে এটিই হবে তার প্রথম ভাষণ।প্রথম দিনের কর্মসূচিগুলোতে একই সঙ্গে আঞ্চলিক কূটনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ দেখা গেছে। তবে এসব বৈঠনের বাস্তব ফলাফল কতটা কার্যকর সহযোগিতা বা নতুন উদ্যোগে রূপ নেয়, সেটিই সফরের দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে যে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন পরবর্তী সময়ে নজর রাখার বিষয়। একইভাবে ভুটান, মালদ্বীপ ও তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কীভাবে এগোয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জাতিসংঘে প্রথম দিনে ১০ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী, পেলেন ৩ দেশ সফরের আমন্ত্রণ