দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন, মাছ চাষে স্মার্ট বাংলাদেশের অঙ্গীকার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৪। “ভরবো মাছে মোদের দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও মৎস্যচাষীরা অংশ নেন।আয়োজকদের মতে, মৎস্য খাতকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এই ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।[TECHTARANGA-POST:1037]পুকুরে পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে উদ্বোধনবুধবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির সূচনা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের কার্যক্রম শুরু হয়।র‍্যালি ও আলোচনা সভাউদ্বোধনের পর একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ।অতিথিদের অংশগ্রহণ ও বক্তব্যআলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক শাকিল আলম বুলবুল উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী জাকারিয়া ইসলাম জুয়েল ভাইস চেয়ারম্যান এমএ মতিন মোল্লা সমবায় কর্মকর্তা এএইচএম তারিকুল শরীফ মৎস্যচাষী রিফাত তারিক ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ফরহাদ আকন্দসহ অনেকে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাত এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষ বাড়ানো গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।মৎস্য খাত ও অর্থনীতির গুরুত্ববাংলাদেশে গত কয়েক বছরে মাছ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, আধুনিক চাষ পদ্ধতি এবং চাষীদের অংশগ্রহণের ফলে দেশ এখন মাছ উৎপাদনে অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ মাছ রপ্তানিতেও আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।সফল মৎস্যচাষীদের সম্মাননাঅনুষ্ঠান শেষে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য কয়েকজন সফল চাষীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন— তারিক রিফাত (রাজাহার) শাহিন আলম (গুমানীগঞ্জ) রাকিবুল (শাখাহার) তাদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি অন্য চাষীদেরও উৎসাহিত করবে।[TECHTARANGA-POST:1070]স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবস্থানীয়রা মনে করছেন, এই ধরনের কর্মসূচি গ্রামীণ পর্যায়ে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি আধুনিক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পেতে চাষীরা আরও সচেতন হবেন।অনেকে বলছেন, সরকারি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে ছোট চাষীরাও বড় পরিসরে মাছ উৎপাদনে সক্ষম হবেন।উপসংহার সব মিলিয়ে গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৪-এর আয়োজন স্থানীয় মৎস্য খাতকে আরও গতিশীল করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বক্তাদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন, মাছ চাষে স্মার্ট বাংলাদেশের অঙ্গীকার