রাজধানীর বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত, কাঁচামরিচসহ কমছে সবজির দাম
কয়েক সপ্তাহের লাগামহীন দামের পর রাজধানীর বাজারে ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছে স্বস্তি। বিশেষ করে সবজির বাজারে দেখা যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাস, যেখানে কাঁচামরিচসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বলছেন, দীর্ঘদিনের চাপের পর এটি কিছুটা স্বস্তির খবর।কাঁচামরিচে বড় ধরনের পতনসবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কাঁচামরিচের দাম। কয়েক সপ্তাহ আগেও এই পণ্যটি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রতি কেজি ৬০০ টাকায় পৌঁছেছিল, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছিল।পরবর্তীতে গত সপ্তাহে দাম নেমে আসে ৩২০ টাকায়। আর সর্বশেষ বাজার পরিস্থিতিতে এটি আরও কমে প্রায় ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।একজন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এখন সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। আমরা পাইকারিতে কম দামে কিনতে পারছি, তাই খুচরায়ও দাম কমাতে হচ্ছে।”[TECHTARANGA-POST:974]অন্যান্য সবজিতেও দাম কমার প্রবণতাশুধু কাঁচামরিচ নয়, রাজধানীর বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী—
বরবটি: ৮০ টাকা কেজি (আগে ছিল প্রায় ১২০ টাকা)
শসা: ৭০–৮০ টাকা
কাকরোল: ৮০–১০০ টাকা
বেগুন: ৭০–৮০ টাকা
করলা: ৮০ টাকা
ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটল ও ঢেঁড়শসহ কিছু সবজি এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। পেঁপের দামও কমে প্রায় ৬০ টাকায় নেমে এসেছে।এখনো বেশি দামে কিছু সবজিসবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও কিছু পণ্যের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি রয়ে গেছে।
টমেটো: ১৮০ টাকা কেজি
গাজর: ১৬০–১৮০ টাকা
লাউ: ৮০–১০০ টাকা (পিস)
লেবু: ২০ টাকা (হালি)
কচুর মুখি: ১০০ টাকা কেজি
বিশেষ করে টমেটো ও গাজরের দাম এখনো ভোক্তাদের জন্য চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।বাজারে স্বস্তির পেছনের কারণব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং পরিবহন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে পণ্যের প্রবাহ বেড়েছে। এতে দাম কমতে শুরু করেছে।বাংলাদেশে সাধারণত মৌসুমি পরিবর্তন, বন্যা ও পরিবহন ব্যাঘাতের কারণে সবজির দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যায়, আর সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমে আসে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি আসার কারণে বাজার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়।বাজার অস্থিরতার অতীত প্রভাবব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন ব্যবস্থার অস্থিরতা এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে সরবরাহ ব্যাহত হয়ে দাম বাড়তে থাকে।তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় এখন বাজারে সেই চাপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে।[TECHTARANGA-POST:975]ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়াক্রেতারা বলছেন, কিছুদিন আগের তুলনায় এখন বাজারে গেলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।একজন ক্রেতা বলেন, “আগে ৫০০–৬০০ টাকা দিয়ে যেটা কেনা যেত না, এখন একই টাকায় কিছুটা বেশি সবজি নেওয়া যাচ্ছে।”তবে তারা মনে করছেন, দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত স্বস্তি স্থায়ী বলা যাবে না।সামনের দিনের বাজার পরিস্থিতিবিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বড় কোনো বিঘ্ন না ঘটলে আগামী দিনগুলোতে সবজির বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে।তারা বলছেন, কৃষি উৎপাদন ভালো থাকলে এবং মৌসুমি সরবরাহ বজায় থাকলে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।উপসংহাররাজধানীর সবজি বাজারে এখন স্বস্তির আভাস মিললেও পুরোপুরি স্থিতিশীলতা এখনো ফিরে আসেনি। কাঁচামরিচসহ কিছু সবজির দামে উল্লেখযোগ্য পতন ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির হলেও কিছু পণ্যের উচ্চ দাম এখনও চাপ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনে বাজার আরও নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির বার্তা।