হিন্দু ও চাকমা সম্প্রদায়কে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের অভিযোগ, থোয়াইচিং মং শাককে শোকজ
বাংলাদেশের হিন্দু ও চাকমা সম্প্রদায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে থোয়াইচিং মং শাককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।সংগঠনটির নোটিশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে থোয়াইচিং মং শাকের বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের তথ্য পাওয়া যায়নি।[TECHTARANGA-POST:2147]হিন্দু ও চাকমা সম্প্রদায়কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগসিএইচটি সম্প্রীতি জোটের নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, থোয়াইচিং মং শাক বাংলাদেশের হিন্দু ও চাকমা সম্প্রদায়কে ঢালাওভাবে উদ্দেশ্য করে ‘কুলাঙ্গার’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সব হিন্দু শিক্ষার্থীকে ‘র’-এর এজেন্ট অথবা ‘ইন্ডিয়ার দালাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।সংগঠনটির দাবি, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংগঠনের নীতি ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ করেছেন বলে মনে করছে সংগঠনটি।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে উদ্বেগসিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মতে, আলোচনায় আসা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনো সম্প্রদায়কে সামগ্রিকভাবে অপমান বা হেয় করে বক্তব্য দিলে সমাজে বিভেদ, অবিশ্বাস ও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।বাংলাদেশের মতো বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেন বৃহত্তর কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজন রয়েছে।সংগঠনটির ভাষ্য, এ ধরনের মন্তব্য তাদের আদর্শ, নীতি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। পাশাপাশি এসব বক্তব্য সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশনোটিশে বলা হয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কেন থোয়াইচিং মং শাকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত বক্তব্য ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো:হিন্দু ও চাকমা সম্প্রদায়কে নিয়ে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ।সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ।তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ।অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নিনোটিশে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে থোয়াইচিং মং শাকের বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে তার সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।সূত্র: 24hrstvbd