দুর্নীতির মামলায় এস কে সুরের স্ত্রী সুপর্ণার ২ বছরের কারাদণ্ড
সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুরের (এস কে সুর) স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরীকে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মো. রবিউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।রায় ঘোষণার দিন কারাগার থেকে সুপর্ণাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানাসহ তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।মামলার নথি অনুযায়ী, সুপর্ণা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।তার নিজের এবং তার স্বামী এস কে সুরের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছিল।২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সুপর্ণা নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ নির্ধারিত ফরম গ্রহণ করেন। কিন্তু আদেশ পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।এরপর এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে।২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলাটি করেন।তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৯ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক এ এম তাহের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।পরে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সুপর্ণার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর মামলার বিচারপর্ব শুরু হয়।বিচার চলাকালে আদালত মোট পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা শেষে মঙ্গলবার আদালত সুপর্ণা সুর চৌধুরীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।দুদকের প্রসিকিউটর শাহ মো. নাজমুস সাকিব রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।দুদকের অনুসন্ধান বা তদন্তে কোনো ব্যক্তির সম্পদের হিসাব চাওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই বিবরণী দেওয়া আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সম্পদের উৎস, দায়-দেনা ও আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই বিবরণী অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো—সুপর্ণা সুর চৌধুরীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড হবে।২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সম্পদ বিবরণীর ফরম গ্রহণ করেছিলেন তিনি।নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে বিবরণী দাখিল না করায় দুদক মামলা করে।বিচার চলাকালে আদালত পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে সম্পদের উৎস ও হিসাবের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কোনো মামলায় অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আদালতের রায়ে প্রমাণিত বিষয়—এই তিনটি আলাদা করে দেখা জরুরি। এ মামলায় আদালতের রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশিত হলে কী কী তথ্য ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেটিও আরও স্পষ্ট হবে।মূল পর্যবেক্ষণ: এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এখানে শুধু অবৈধ সম্পদ থাকার অভিযোগ নয়, বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার বিষয়টিই মামলার আইনি ভিত্তি হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, মামলাটি তা আবারও সামনে আনল।