দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

খুলনা বিভাগে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, ৯ প্রতিষ্ঠানে ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা

খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযানে একদিনে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে ওষুধ, খাবার ও সেবা খাত পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।রবিবার (০৪ মে ২০২৬) খুলনা বিভাগের আওতাধীন একাধিক জেলায় একযোগে এই অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ৮টি টিম।একযোগে ৮টি টিমের অভিযানবাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন অধিদপ্তরের এই অভিযানে খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার বাজার, হাসপাতাল এলাকা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তদারকি করা হয়।অভিযান চলাকালে চাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, ওষুধ, আলু, পেঁয়াজ, সবজি, ডিম ও মুরগির বাজার দর যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার এবং মূল্য তালিকা পর্যালোচনা করা হয়।যেসব প্রতিষ্ঠানে জরিমানাঅভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়— খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় আর বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল-কে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় একই এলাকায় নাওয়াব মেডিকেল বিশ্বাস ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ক্লিনিককে সেবা ঘাটতির অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় কুষ্টিয়ার আইলাচারা বাজারে জোয়ার্দ্দার হোটেলকে অবৈধ খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় মাগুরার বাটিকাডাংগা বাজারে মেসার্স ঢাকা কোয়ালিটিকে নিষিদ্ধ উপাদান মিশ্রণ ও মিথ্যা বিজ্ঞাপনের অভিযোগে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ঝিনাইদহের পবহাটি বাজারে রুচিরা বেকারিকে অবৈধ উৎপাদনের অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় খুলনা নগরীর শান্তিধাম মোড়ে ডলি’স মোমোকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ঢাকা কাচ্চি ডাইনকে অবৈধ খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় যশোরের বাঘারপাড়া এলাকায় আলামিন ক্রোকারিজকে মোড়ক ব্যবহার না করার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় মেহেরপুরের কোমরপুর বাজারে সাঈদ ডেন্টাল কেয়ারকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় সব মিলিয়ে ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।প্রশাসনের সতর্ক বার্তাঅভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়। ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে পণ্য বিক্রি, ভাউচার সংরক্ষণে অনিয়ম বা ভোক্তাকে প্রতারণা করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তারা আরও বলেন, বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নজরদারিস্থানীয় ভোক্তারা বলছেন, বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সাধারণ মানুষ প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অভিযান বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শুধু জরিমানাই যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য সরবরাহ চেইন, মনিটরিং ব্যবস্থা এবং ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।খুলনা বিভাগের এই যৌথ অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। তবে সাধারণ ভোক্তারা চান, এমন অভিযান নিয়মিত ও আরও কঠোরভাবে পরিচালিত হোক, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।

খুলনা বিভাগে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, ৯ প্রতিষ্ঠানে ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা