দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

কাজিপুরে ৬৫৫ পরিবার পেল বিনামূল্যে মুরগির বাচ্চা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বাবলম্বিতার আশা

গ্রামীণ দারিদ্র্য কমানো ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় নেওয়া হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সরকারি সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৬৫৫ জন সুবিধাভোগীর মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে মুরগির বাচ্চা। প্রতিটি পরিবার পেয়েছে ১৫টি করে মুরগির বাচ্চা, যা তাদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয় দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ ও আশাবাদ।উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের যৌথ উদ্যোগবুধবার Kazi Pur Upazila উপজেলায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে এই বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে।[TECHTARANGA-POST:1057]অতিথিদের বক্তব্যে স্বাবলম্বিতার গুরুত্বপ্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজ। তিনি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় দারিদ্র্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।তার মতে, এমন প্রকল্প শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি করতে পারে।প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নঅনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আহসান। তিনি জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু মুরগির বাচ্চা বিতরণই নয়, বরং পালন পদ্ধতি, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং রোগ প্রতিরোধ বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।এতে সুবিধাভোগীরা সঠিকভাবে পোলট্রি পালন করে লাভবান হতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতামতঅনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম হোসেন এবং সুলতানা হকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।তারা বলেন, গ্রামীণ দরিদ্র পরিবার যদি ছোট পরিসরে হলেও হাঁস-মুরগি পালন শুরু করতে পারে, তাহলে তাদের পারিবারিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।সুবিধাভোগীদের প্রতিক্রিয়াবিতরণ শেষে অতিথিরা সুবিধাভোগীদের হাতে মুরগির বাচ্চা তুলে দেন। এ সময় অনেকের মুখে ছিল স্বস্তি ও আশার হাসি।[TECHTARANGA-POST:1052]একাধিক সুবিধাভোগী জানান, এই সহায়তা তাদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। কেউ কেউ বলেন, ছোট পরিসরে হলেও এই উদ্যোগ তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।গ্রামীণ অর্থনীতিতে পোলট্রির ভূমিকাবিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতিতে হাঁস-মুরগি পালন দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো এই খাতের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে।তারা বলছেন, কম খরচে শুরু করা যায় এবং দ্রুত আয় পাওয়া সম্ভব হওয়ায় পোলট্রি খাত দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।চরাঞ্চলের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিকবিশেষ করে নদীবিধৌত ও চরাঞ্চল এলাকায় কৃষির পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তামূলক প্রকল্পগুলো স্থানীয় মানুষের জীবিকা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।Kazi Pur Upazila-এর মতো এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রশাসনের লক্ষ্য: স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিউপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু সহায়তা দেওয়া নয়, বরং মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পর্যায়ক্রমে আরও প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে বিস্তৃত করা হবে।[TECHTARANGA-POST:1056]উপসংহারকাজিপুরে ৬৫৫ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে মুরগির বাচ্চা বিতরণের এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা দারিদ্র্য হ্রাস ও আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করতে সহায়তা করবে।

কাজিপুরে ৬৫৫ পরিবার পেল বিনামূল্যে মুরগির বাচ্চা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বাবলম্বিতার আশা