বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযান, দুই লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, ওষুধ, চকলেট ও বিভিন্ন কসমেটিকস সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।বুধবার (১৩ মে) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিশেষ টহলদল সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য জব্দ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি।সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল জোরদারবিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এর অংশ হিসেবে টহলদল অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য আটক করতে সক্ষম হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ১৬টি শাড়ি, একটি থ্রি-পিস, ৪০০ পিস ওষুধ, ৩ হাজার ৬২৫টি চকলেট এবং ৬৫টি কসমেটিকস সামগ্রী। উদ্ধার হওয়া এসব পণ্য পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।চোরাচালান ঠেকাতে অব্যাহত অভিযানযশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও চোরাচালান পণ্য পাচার রোধে বিজিবি বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।তিনি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান চালানোর ফলে বিভিন্ন সময় বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তকে আরও নিরাপদ রাখতে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।সীমান্ত চোরাচালান নিয়ে উদ্বেগস্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত ঘিরে সক্রিয় কিছু চক্র বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে বিদেশি পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করে থাকে। বিশেষ করে উৎসব মৌসুম বা চাহিদা বাড়ার সময় চোরাচালানের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন অনেকে।বিশ্লেষকদের মতে, চোরাচালান শুধু রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতিই করে না, বরং বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্যও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্যের বিস্তার স্থানীয় বাজার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আইনগত প্রক্রিয়া চলমানবিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।