বিশ্বের ৫০ দেশের গবেষকদের মিলনমেলা, ডিআইইউতে শেষ হচ্ছে ইসিসিটি ২০২৬
রাজধানীর ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক আন্তর্জাতিক আয়োজন “ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজিস (ইসিসিটি ২০২৬)” এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৮ মে শুক্রবার। বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসটিএসি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশের গবেষক ও একাডেমিশিয়ানরা অংশ নিয়েছেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যোগাযোগ প্রযুক্তি, কম্পিউটার সিস্টেম, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে একাধিক গবেষণা সেশন, কীনোট স্পিচ ও ইনভাইটেড টক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।প্রযুক্তি গবেষণায় আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরির চেষ্টাআয়োজকরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করতেই এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের গবেষকদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে নতুন ধারণা, গবেষণালব্ধ ফলাফল এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেওয়া কয়েকজন গবেষক জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবন নিয়ে এমন বড় পরিসরের আয়োজন তুলনামূলক কম দেখা যায়। ফলে এই সম্মেলন তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।[TECHTARANGA-POST:1115]সমাপনী অনুষ্ঠানে থাকছেন বিশিষ্টজনেরাসমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববী হাজ্জাজ।সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান এবং ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাছেত।গবেষণা উপস্থাপনায় গুরুত্ব পেয়েছে নতুন প্রযুক্তিসম্মেলনের বিভিন্ন গবেষণা উপস্থাপনায় উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, স্মার্ট কমিউনিকেশন, রোবোটিক্স এবং ডেটা সায়েন্সভিত্তিক নানা উদ্ভাবনী ধারণা। অংশগ্রহণকারীদের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ বিশ্বে টিকে থাকতে হলে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্মেলনে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই তাদের গবেষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন, যা ভবিষ্যৎ একাডেমিক ও পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তাপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন দেশের উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তি গবেষণার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া গবেষণায় এগিয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।তারা বলছেন, বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও বিস্তৃত হলে নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবক ও গবেষকরা বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।[TECHTARANGA-POST:1124]অংশগ্রহণকারীদের জন্য উন্মুক্ত আমন্ত্রণআয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগ্রহী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে সম্মেলনের সেরা গবেষণা প্রবন্ধ ও উদ্ভাবনী কাজের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হবে বলেও জানা গেছে।
সম্মেলনের আয়োজকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এই আয়োজন আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রযুক্তি গবেষণার অবস্থান আরও দৃশ্যমান হবে।