বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা; জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হতে পারে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ। একই সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। ফলে বাইরে বের হওয়ার সময় সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া থাকায় খোলা জায়গা, নদী, মাঠ বা নির্মাণাধীন স্থাপনার আশপাশে অবস্থানকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।এই সময়ে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।অর্থাৎ, গরমের অনুভূতি কিছুটা কমলেও বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা, যানজট ও স্বাভাবিক চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।এই পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব থাকা এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। এ সময় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল।বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় বৃষ্টির আগে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। আবার বৃষ্টির পর কিছু সময়ের জন্য তাপমাত্রা ও গরমের অনুভূতি কমে আসতে পারে।তবে বৃষ্টির পর রাস্তায় পানি জমে গেলে নগরবাসীর চলাচলে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও যানজটপ্রবণ সড়কে পরিস্থিতি খেয়াল রাখা জরুরি।বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনে খোলা জায়গায় অবস্থান না করাই ভালো। বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকলে গাছের নিচে, বিদ্যুতের খুঁটির পাশে বা খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।এ ছাড়া—বাইরে বের হলে ছাতা বা প্রয়োজনীয় বৃষ্টির সরঞ্জাম সঙ্গে রাখাবজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্ক থাকানদী ও জলাশয়ে চলাচলের সময় আবহাওয়ার অবস্থা খেয়াল করারাস্তায় পানি জমলে যানবাহনের গতি কমানোঝড়ো হাওয়ার সময় দুর্বল গাছ, সাইনবোর্ড ও নির্মাণাধীন ভবন থেকে দূরে থাকাউপকারী হবে।গুরুত্বপূর্ণ দিকদেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে।দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে।মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কোথাও বৃষ্টির কারণে গরম কিছুটা কমতে পারে, আবার কোথাও ভারি বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার কারণে জনজীবনে সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।তাই প্রয়োজন ছাড়া বৃষ্টির সময় বাইরে না বের হওয়া, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকা এবং স্থানীয় আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।