প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
মামলা, হামলা ও দলে অবহেলা—অভিমান ভেঙে নতুন দলে ইসহাক সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দলের জন্য আন্দোলন করেছেন বছরের পর বছর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই নেতার কাছ থেকেই অপমানিত হয়ে ফিরতে হয়েছে—এমনই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বিএনপির সাবেক নেতা ইসহাক সরকার। তার ভাষায়, “যার ডাকে এতদিন আন্দোলন করেছি, সেদিন তিনিই আমাকে তাড়িয়ে দিলেন।”সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইসহাক সরকার তার রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। শুধু মামলা নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়েও বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।ইসহাক সরকারের দাবি, এসব ঘটনার বিচার পাওয়ার জন্য তিনি বারবার চেষ্টা করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। তার কথায়, “আমি বিচার পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথাও পৌঁছাতে পারিনি।”তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন নেতার কাছে নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। ইসহাক সরকারের অভিযোগ, ওই নেতা তার কথা শোনার আগ্রহই দেখাননি, বরং কুরুচিপূর্ণ আচরণ করে তাকে সেখান থেকে বের করে দেন।সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, শুরুতেই ওই নেতা তার কথা শুনতে অস্বীকৃতি জানান। তখন ইসহাক সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের একজন কর্মী হিসেবে তার কথা শোনা উচিত। তিনি স্বীকার করেন, যদি কোনো ভুল করে থাকেন তাহলে শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে তার ওপর হওয়া হামলা ও মামলাগুলো অন্তত যাচাই করে দেখার অনুরোধ করেছিলেন।কিন্তু তার সেই অনুরোধের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বরং অবজ্ঞা ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে তাকে অপমান করা হয়। এই ঘটনা তাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে এবং এটি তিনি আজীবন মনে রাখবেন বলে জানান।ইসহাক সরকার বলেন, অতীতে ওই নেতাই তাকে আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি রাজপথে নেমেছেন বহুবার। তাই এমন আচরণ তার কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। তিনি বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি তিনি আমার সঙ্গে এমন আচরণ করবেন।”এর পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর তার ওপর দুবার হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা বা প্রতিকার পাননি। এসব ঘটনায় তিনি নিজেকে একা ও অসহায় মনে করেছেন বলে জানান।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলবদল বা নতুন দলে যোগ দেওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত অভিমান, বঞ্চনা বা নিরাপত্তাহীনতা বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় অনেক নেতাকর্মী নিজ অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন, যা তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।পটভূমি হিসেবে দেখা যায়, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্বের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের সমস্যাগুলো অনেক ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত পৌঁছায় না বা গুরুত্ব পায় না।এই প্রেক্ষাপটে ইসহাক সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে অনেকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, হামলার ঘটনা এবং বিচার না পাওয়ার হতাশা থেকেই শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।নতুন দলে যোগ দিয়ে তিনি ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার কথাও জানিয়েছেন। তার আশা, নতুন প্ল্যাটফর্মে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারবেন এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে পারবেন।সব মিলিয়ে, ইসহাক সরকারের এই বক্তব্য আবারও তুলে ধরেছে দেশের রাজনীতির ভেতরের টানাপোড়েন ও নেতাকর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার চিত্র। অভিযোগগুলো কতটা সত্য, তা যাচাইয়ের বিষয় থাকলেও তার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর