প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তার মৃত্যু ঘিরে রহস্য উদ্ঘাটন, সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচজন আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)। এ ঘটনায় জড়িত একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আলোচিত এই ঘটনাটি কয়েকদিন ধরেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।র্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে বুলেট বৈরাগী (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিত হলে জানা যায়, তিনি চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির একজন কর্মকর্তা। প্রশিক্ষণ শেষে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে তিনি এই ঘটনার শিকার হন।ঘটনার পর নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার নির্মমতা ও ভুক্তভোগীর পরিচয়ের কারণে বিষয়টি দ্রুতই দেশজুড়ে আলোচনায় আসে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নেমে পড়ে।র্যাব জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং মো. সুজন। তাদের সবাই একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে নিহত বুলেট বৈরাগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাগ ও পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা, চাপাতি, স্ক্রু ড্রাইভার, ফোরজিং হ্যামার, প্লায়ার্সসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং কিছু নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পারে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়ককেন্দ্রিক ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা সাধারণত রাতের বেলায় একা বা কম সংখ্যক যাত্রীকে টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে নেয়। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।ঘটনার দিন গভীর রাতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় ওৎ পেতে থাকা অবস্থায় তারা বুলেট বৈরাগীকে সিএনজিতে তোলে। চলন্ত গাড়ির ভেতরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মারধর করে তার কাছ থেকে টাকা ও জিনিসপত্র নিয়ে নেয়। পরে কোটবাড়ি এলাকায় পৌঁছে তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়, এতে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।ঘটনার পরপরই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। তবে প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে র্যাব তাদের অবস্থান শনাক্ত করে এবং দ্রুত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবহৃত যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। মাঝে মাঝে এই সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে এমন হত্যাকাণ্ড জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে এই ধরনের অপরাধ দমনে নজরদারি জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।র্যাব-১১ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সব মিলিয়ে এই ঘটনাটি মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত অভিযানে আসামিদের গ্রেফতার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর