প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সিগারেট বাজারে নজরদারি জোরদার, নতুন কর আপাতত নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আগামী অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে সিগারেটের দাম নিয়ে বড় ধরনের বার্তা দিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, আপাতত সিগারেটের ওপর নতুন করে শুল্ক বা কর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে বাজেট ঘিরে যে কর বৃদ্ধির আশঙ্কা ছিল, তা কিছুটা কমেছে।সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে তামাক খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এই কথা বলেন। সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং অন্যান্য খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে সিগারেটের ওপর যে করহার আছে, সেটি ইতোমধ্যেই বেশ উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাই নতুন করে কর বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। তিনি জানান, সরকার রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি যেমন গুরুত্ব দেয়, তেমনি বাজারের বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখে। সেই দিক থেকে এই মুহূর্তে নতুন কর চাপানোর পরিবর্তে বিদ্যমান কাঠামোই বজায় রাখা হচ্ছে।তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো সিগারেটের দাম তুলনামূলক কম। এ কারণে ভবিষ্যতে দাম পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। অর্থাৎ কর না বাড়ালেও বাজারমূল্যে কিছু পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।সভায় তামাক শিল্পের পক্ষ থেকে অবৈধ সিগারেটের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা বলেন, দেশে অবৈধভাবে সিগারেট আমদানি ও বাজারজাত করা হচ্ছে, যা সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তারা এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে সরকার নতুন কিছু প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে সিগারেট পণ্যে একটি বিশেষ কোড ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই কোডের মাধ্যমে সহজেই বোঝা যাবে পণ্যটি বৈধভাবে বাজারে এসেছে কিনা। এতে বাজারে নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে এবং অবৈধ পণ্যের প্রবেশ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই বৈঠকে শুধু তামাক খাতই নয়, মোবাইল ফোন ও টেলিকম খাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা সিম পরিবর্তনের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানি বন্ধে একটি জাতীয় পর্যায়ের নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন। এই দাবিগুলোও এনবিআর গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বলে জানানো হয়।পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশে তামাক খাত দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের অন্যতম বড় রাজস্ব উৎস। প্রতি বছর বাজেটের সময় এই খাতে কর বৃদ্ধি বা পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণে সিগারেটের দাম বাড়ানোর পক্ষে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরও চাপ থাকে। তবে সরকারকে এখানে একটি ভারসাম্য রাখতে হয়—একদিকে রাজস্ব আদায়, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণ।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অবৈধ পণ্যের বাজার। দেশে অনেক সময় সীমান্ত দিয়ে বা অন্য উপায়ে অবৈধভাবে সিগারেট ঢুকে পড়ে, যা সরকারকে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে। তাই সাম্প্রতিক সময়ে সরকার এই খাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর দিকে বেশি জোর দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন বাজেটে সিগারেটের ওপর নতুন করে কর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—দুই পক্ষের জন্যই তাৎক্ষণিক স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে বাজারদর ও নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় বিষয়টি পুরোপুরি স্থির নয়। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আদায় ঠিক রাখা এবং একই সঙ্গে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা—এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর