প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
টঙ্গীতে বাবা-ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদে বড় ছেলে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
টঙ্গীর বনমালা এলাকায় একই পরিবারের বাবা ও ছেলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার ভোরে নিজ ঘর থেকে ছেলের এবং বাড়ির পাশের রেললাইন থেকে বাবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে, কারণ দু’জনের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়।নিহতরা হলেন মো. সোহেল হোসেন (৫২) এবং তার ছেলে সাকিব হোসেন (১৮)। পুলিশ জানিয়েছে, সাকিবের মরদেহ তাদের ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়, আর সোহেল হোসেনের লাশ পাওয়া যায় বাড়ির কাছের রেললাইনে। ঘটনাটি একই সময়ে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরবেলায় পুলিশ এসে প্রথমে সাকিবের লাশ উদ্ধার করে। পরে আশপাশে খোঁজ নিতে গিয়ে রেললাইনের পাশে পড়ে থাকা সোহেল হোসেনের মরদেহ দেখতে পায় তারা। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বলছেন, এমন ঘটনা আগে এখানে খুব একটা ঘটেনি।টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, ঘটনাটি তারা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, “ঘরের ভেতর থেকে ছেলের লাশ এবং রেললাইন থেকে বাবার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি।”এই ঘটনার পর পরিবারের বড় ছেলে সোহান হোসেনকে (২৭) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি।এলাকাবাসীর অনেকেই ধারণা করছেন, এটি হয়তো পারিবারিক কোনো বিরোধ বা ব্যক্তিগত সমস্যার ফল হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, রেললাইনে লাশ পাওয়ায় দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো ঘটনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। পুলিশও একইভাবে সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।বাংলাদেশে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। অসাবধানতাবশত অনেক মানুষ ট্রেনের নিচে পড়ে প্রাণ হারান। তবে একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আলাদা জায়গায় মৃত্যু খুবই বিরল ঘটনা, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, কোনো মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে হলে ময়নাতদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।এ ঘটনায় পুরো বনমালা এলাকায় এখন শোকের পাশাপাশি উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, পরিবারটি সাধারণ জীবনযাপন করত এবং তাদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সমস্যা আগে চোখে পড়েনি।সব মিলিয়ে, ঘটনাটি এখনো রহস্যে ঘেরা। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে তারা আশাবাদী, খুব দ্রুতই এই মৃত্যুর পেছনের আসল কারণ বেরিয়ে আসবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর