প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কতা জোরদার
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় হঠাৎ করেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের হামলা বা বিশৃঙ্খলা ঘটতে না পারে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যদের পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দাদের হাতে এমন কিছু তথ্য এসেছে, যেখানে বলা হচ্ছে—এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। এ কারণে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে যেতে চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে হবে এবং সন্দেহজনক যেকোনো তৎপরতার ওপর নজর রাখতে হবে।চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া এক উগ্রবাদী সদস্য ইশতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এই তথ্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বা সাবেক সদস্যদের সম্পৃক্ততা থাকলে হামলার ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়।গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি দেশের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা শাহবাগ। এসব জায়গা সাধারণ মানুষের ভিড়ে সব সময়ই সরগরম থাকে, তাই এখানে হামলা হলে বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।শুধু বোমা হামলাই নয়, দেশীয় ধারালো অস্ত্র কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেও হামলা চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এমনকি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। এসব তথ্য পাওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টিকে উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে বিবেচনা করছে।এদিকে, নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রবেশপথে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।পটভূমি হিসেবে বলা যায়, অতীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় হামলার চেষ্টা হলে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাই আগে থেকেই সতর্কতা নেওয়া এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।এছাড়া, উগ্রবাদী সংগঠনগুলো সাধারণত এমন জায়গাকেই টার্গেট করে যেখানে বেশি মানুষ থাকে বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা একদিকে আতঙ্ক ছড়াতে চায়, অন্যদিকে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চায়। ফলে এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব সময়ই চ্যালেঞ্জের বিষয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কাজও চলছে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে—সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো যায়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর