প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৪
বস্তায় বস্তায় ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ, দুদকের জালে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালসহ ছয়জন
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দুদকের অনুসন্ধানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালসহ ৬ জন, ঘুষ-নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে তোলপাড়
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, নিয়োগ-বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ ও প্রাথমিক যাচাই শুরু করেছে।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
অনুসন্ধানের আওতায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পাশাপাশি আরও পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তার নাম এসেছে। তারা হলেন—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা ইব্রাহিম হোসেন, সহকারী একান্ত সচিব মনির হোসেন এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু।
অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তারা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ, প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন করতেন।
অভিযোগে কী বলা হচ্ছে
অভিযোগ অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুষের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ ও বদলি দেওয়া হতো। বিশেষ করে পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের কথা বলা হয়েছে।
একাধিক অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় (এনওসি) ৮০ লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হতো। এসব টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও
দুদক সূত্রের দাবি, এসব লেনদেন থেকে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
একটি অভিযোগে বলা হয়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কমিশনার নিয়োগে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছিল, যা নিয়ে তদন্তে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নিয়োগ ও অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ
ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে তালিকা পাঠানো এবং সেই অনুযায়ী নিয়োগ নিশ্চিত করার অভিযোগও তদন্তে রয়েছে। জনপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রেও ঘুষের বিনিময়ে ফাইল অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
দুদকের অবস্থান
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে অনুসন্ধানাধীন। সব তথ্য যাচাই শেষে যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এটি একটি চলমান অনুসন্ধান, তাই এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
শেষ কথা
এই অভিযোগগুলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দুদক বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এখন নজর থাকছে অনুসন্ধান টিমের রিপোর্টে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি হতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর