প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়াই চুক্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনায় না এলে বিপদে পড়বে ইরান: ট্রাম্প
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, Iran শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসবে বলেই তিনি মনে করেন। তবে তেহরান যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে তারা এমন সমস্যার মুখে পড়বে—যা আগে কখনো দেখেনি। এই মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এক রেডিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে ইরান একটি “ন্যায্য চুক্তি” করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যে কোনো চুক্তির শর্ত হিসেবে ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা চলবে না। রেডিও অনুষ্ঠান দ্য জন ফ্রেডেরিক শো–তে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা আলোচনা করবে, আর যদি না করে, তাহলে এমন সমস্যার মুখে পড়বে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।” তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরান তাদের দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ পেতে পারে—তবে সেটি পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়াই হতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দিতে পারি না। এটি বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের ধ্বংস ডেকে আনতে পারে।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ রয়েছে। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া United States-এর সামনে অন্য কোনো পথ ছিল না। তার কথায়, “আমাদের কোনো বিকল্প ছিল না। আমাদের এটা করতেই হয়েছে।” এই বক্তব্য চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের অবস্থানকে আরও পরিষ্কার করে।বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের পর দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং এর প্রভাব জ্বালানি বাজারসহ বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে একটি বড় পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল, যার মাধ্যমে তেহরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। তবে পরে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ালে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও অবনতির দিকে যায়। এরপর থেকেই নতুন করে আলোচনার চেষ্টা চলছে।এদিকে ইরানও একাধিকবার জানিয়েছে, তারা “হুমকির ছায়ায়” কোনো আলোচনা করতে চায় না। তেহরানের অবস্থান হলো—চাপ প্রয়োগ করে আলোচনায় বসানোর চেষ্টা হলে তা ফলপ্রসূ হবে না। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে দ্রুত একটি নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে, যাতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে ইরান তাদের সার্বভৌম স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্তে আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে—ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়, তবে একই সঙ্গে কঠোর অবস্থানও বজায় রাখছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসে কি না—তার ওপরই।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর