প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
দেশজুড়ে ৩,৮৮৫ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা শুরু, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
শের লাখো শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ—এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে। সারা দেশে একযোগে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবারের পরীক্ষায় ছাত্র ও ছাত্রীর অংশগ্রহণ প্রায় সমান। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী রয়েছে। এই ভারসাম্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, এটি দেশে শিক্ষার সুযোগ বিস্তারের একটি ভালো দিক তুলে ধরে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।
প্রতিবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। এই বোর্ডে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন। দিনাজপুর ও রাজশাহী বোর্ডে যথাক্রমে প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার এবং ১ লাখ ৭৭ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
অন্যদিকে সিলেট ও বরিশাল বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও ৮০ থেকে ৯০ হাজারের মধ্যে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের প্রতিটি বোর্ডেই সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসব কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছে। মাদ্রাসা বোর্ডের জন্য ৭৪২টি এবং কারিগরি বোর্ডের জন্য ৬৫৩টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিশেষ নজরদারিও রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন। তারা পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিটি কেন্দ্রে সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ঢিলেঢালা পোশাক পরা, বেশি পানি পান করা এবং প্রয়োজন হলে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও পরীক্ষার সময় শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার কথা বলছেন।
বাংলাদেশে এসএসসি পরীক্ষা শিক্ষাজীবনের প্রথম বড় পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে ধরা হয়। এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তির সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতের শিক্ষা পথ অনেকটাই নির্ধারিত হয়।
গত কয়েক বছরে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন পাঠ্যক্রম চালুর পর এবারই প্রথম বড় পরিসরে পরীক্ষা হওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ????????
সব মিলিয়ে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় আয়োজন। তাপপ্রবাহ ও নতুন পাঠ্যক্রম—দুই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে—এমনটাই আশা করছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাই। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক—সবার লক্ষ্য এখন একটি নির্ভার ও স্বচ্ছ পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর