প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার সম্ভাবনা, ব্যর্থ হলে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রতিনিধি দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি বলেছেন, একটি “ন্যায্য ও যুক্তিসংগত” চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন Iran তা গ্রহণ করবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে Donald Trump জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল শিগগিরই Pakistan–এর রাজধানী Islamabad পৌঁছাবে এবং সেখানে ইরান ইস্যুতে আলোচনা করবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নিতে পারে।ট্রাম্পের ভাষায়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি আরও বলেন, “আর ভদ্র আচরণ থাকবে না”—এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপের পথও খোলা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।এদিকে ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন করেছে। যদিও তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, এখনও একটি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা আছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের সাংবাদিক Jonathan Karl–কে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “শান্তি চুক্তি হবেই—সহজভাবে না হলে কঠিনভাবে।”এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন ইসলামাবাদে সম্ভাব্য প্রথম দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে দ্বিতীয় দফা বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে একের পর এক অস্পষ্ট ও কঠোর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ তৎপর হলেও বাস্তবে পুরো বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণে নেই। কারণ, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হলে ইরানের সম্মতি প্রয়োজন। অন্যদিকে ইরান এখনো মনে করছে, কৌশলগতভাবে তারা শক্ত অবস্থানে আছে।বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz ইরানের জন্য বড় কৌশলগত শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। অতীতে এই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি হলেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। তাই এই পথকে কেন্দ্র করে ইরান বরাবরই নিজের প্রভাব ধরে রাখতে চায়।অন্যদিকে পাকিস্তানকে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি অতীতে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। ফলে ইসলামাবাদে আলোচনার উদ্যোগকে অনেকেই কূটনৈতিকভাবে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।তবে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সমাধান চাইলেও ইরানের অবস্থান অপেক্ষাকৃত ধীর এবং হিসেবি। তাই ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই আলোচনা সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—আর ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর