প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৪
শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করার নির্দেশ, আটক এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মুক্তিতে কাজ করছে সরকার: ওবায়দুল কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের অযথা হয়রানি বা আটক না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী Obaidul Quader। তিনি বলেছেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন বিনা কারণে ভোগান্তির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তিতে কাজ করছে সরকারসংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তাদের মুক্তির বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষা জীবন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।তার ভাষায়, “কোনো শিক্ষার্থী যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”তবে কতজন শিক্ষার্থী আটক রয়েছেন বা তাদের মুক্তির বিষয়ে কী ধরনের প্রক্রিয়া চলছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাননি তিনি।“শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরতে হবে”আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার মনে করে শিক্ষার্থীদের মূল দাবি অনেকাংশে পূরণ করা হয়েছে।এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তার মতে, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অচল থাকলে শিক্ষার্থীদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হবে এবং শিক্ষার্থীরা আবার পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবে।তদন্ত কমিশনের কার্যক্রমের কথা বললেন কাদেরসংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের কার্যপরিধি বাড়ানো হয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে তিনজন বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।তার দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।নিহতদের পরিবার ও আহতদের সহায়তার কথাওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina সাম্প্রতিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও সরকার নজর রাখছে।তবে কতজনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে বা কী পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।“অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে”সংবাদ সম্মেলনে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।তিনি বলেন, ভিন্নমত প্রকাশ গণতন্ত্রের অংশ হলেও কেউ যেন পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ না নেয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে “তৃতীয় পক্ষ” সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।তিনি জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের প্রসঙ্গও টানেন এবং বলেন, সরকার তাদের বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।তবে তার এই বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।আন্দোলনের পটভূমিবাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকার ধারণ করে।বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর একাধিক জায়গায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর, হতাহতের ঘটনা এবং গ্রেপ্তারের খবর আসে।পরে সরকার কোটা সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানালেও আন্দোলনের নতুন দফা দাবি সামনে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। অতীতেও শিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক বৈষম্যের বিভিন্ন ইস্যুতে শিক্ষার্থীরা বড় আন্দোলন গড়ে তুলেছে।পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি নমনীয় অবস্থানের কথা বললেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।একদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা জীবন রক্ষা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ—এই দুই চ্যালেঞ্জ এখন সরকারের সামনে রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপ, সহনশীলতা এবং স্বচ্ছ তদন্তই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রধান উপায় হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর