প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা: কার্যকর রূপরেখা তৈরির দাবি বিএমএসএফ সভাপতির
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তবে প্রকল্পটির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা, বয়সের সীমা এবং কার্যক্রম শুরুর তারিখ নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা যেন অতীতে কোনো মন্ত্রীর ফাঁপা প্রতিশ্রুতিতে আর বিভ্রান্ত না হন, সেদিকে খেয়াল রেখে সরকারকে বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরের হোটেল অরনেটের বলরুমে ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ’-এর ত্রৈমাসিক সাধারণ সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘সরকারের অগ্রগতি ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বর্তমান সাংবাদিকতার সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন, “তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর প্রবীণ সাংবাদিকদের ভাতা দেওয়ার বিষয়টি প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু সাংবাদিকরা অতীতে বিভিন্ন সরকারের মন্ত্রীদের বড় বড় মিছে আশ্বাসে অনেকটা হতাশ। তাই এটি যেন শুধুই মৌখিক আশ্বাস না হয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, সেই দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে কত বছর বয়স থেকে সাংবাদিকরা এই ভাতার সুবিধা পাবেন, তা দ্রুত নির্ধারণ করা উচিত।”তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ’কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি সরকারকে এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি রাজু আলীমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক পরিষদের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আহসান উল্লাহ।সভায় বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সুসংহত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। তবে সাংবাদিকরা যদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রবীণ সাংবাদিকরা সারা জীবন দেশের জন্য কাজ করে অবসর জীবনে অনেক সময় চরম সংকটে পড়েন। তাই তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ রনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এডিটরস ফোরামের সভাপতি ওমর ফারুক জালাল, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক ধর ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম।এছাড়াও সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রীড়া অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মো: দুলাল হোসেন, বিশ্ব ইজতেমা উদযাপন কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মনির হোসেন, বাংলাদেশ ইয়্যুথ রেভল্যুশনের তথ্য ও প্রচার উপ-কমিটির চেয়ারম্যান সায়েম ইসলাম টুটুল এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল কাইয়ুম মিঠুসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও বর্তমান বাস্তবতা
বাংলাদেশে গণমাধ্যম এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। একদিকে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় সংবাদের দ্রুত বিস্তার ঘটছে, অন্যদিকে সাংবাদিকদের জীবনমান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই। অতীতে দেখা গেছে, অনেক সময় সাংবাদিকদের স্বার্থে করা নীতিমালাগুলো কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে সংবাদকর্মীরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন। প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত এই অবসর ভাতা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের ইতিহাসে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।সবশেষে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার ও তথ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় অতীতে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতির চেয়ে এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কেবল আলোচনা বা সভায় সীমাবদ্ধ না থেকে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর