প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হজ ভিসা ইস্যু, ২০ মার্চের মধ্যে আবেদন শেষ করার নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
পবিত্র হজকে সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু করবে সৌদি আরব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ শেষ করে ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার আবেদন করতে বলা হয়েছে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের। এতে হজের প্রস্তুতি আরও দ্রুত ও সহজ হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে আগেভাগেই ভিসা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। সাধারণত হজের কয়েক মাস আগে থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসল্লির যাত্রা নির্বিঘ্ন করা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই উদ্যোগ সৌদি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ধর্মীয় পর্যটনকে আরও আধুনিক ও সহজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবার সব চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে মক্কার আবাসন ব্যবস্থাপনা ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার জন সরাসরি নিজ নিজ দেশ থেকেই হজ প্যাকেজ বুক করেছেন।
হজ মৌসুমে মিনাসহ পবিত্র স্থানগুলোতে হজযাত্রীদের থাকার সুবিধার জন্য ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ৭৩টি হজবিষয়ক দপ্তর তাদের প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ শেষ করেছে, যা হজ ব্যবস্থাপনার বড় একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত হজযাত্রীদের বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নির্ধারিত টিকা গ্রহণ শেষ করে ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। এরপরই ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।ধর্ম মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চলতি বছর ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো হজযাত্রী হজে যেতে পারবেন না। কারণ হজের সময় দীর্ঘ হাঁটা, গরম আবহাওয়া এবং ভিড়ের কারণে শারীরিকভাবে সক্ষম থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২০ লাখের বেশি মুসলমান হজ পালন করতে সৌদি আরবে যান। বাংলাদেশ থেকেও সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রী অংশ নেন। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি সরকার অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়িয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল থেকে, যা হজযাত্রীদের প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা গ্রহণ এবং ভিসা আবেদন সম্পন্ন করতে পারলে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের যাত্রা আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই নিবন্ধিত সবাইকে সময়মতো প্রস্তুতি শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর