প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ভবন নির্মাণ থেমে আছে, চিকিৎসক নেই—সরাইলের স্বাস্থ্যসেবার বেহাল চিত্র সংসদে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি এখন নিজেই যেন চিকিৎসার প্রয়োজন এমন অবস্থায় রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি সরাইলের স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য সরাইল উপজেলায় মাত্র একটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। অথচ এত বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য এই হাসপাতালের অবকাঠামো, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কোনো দিক থেকেই যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, “হাসপাতালটা নিজেই এখন একটা রোগীর মতো।”তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মচারীর তীব্র সংকট চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি পড়ে আছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের মোট ৬৪টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ফলে হাসপাতালে আসা রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।সংসদ সদস্য বলেন, শুধু জনবল নয়, হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় ওষুধেরও ঘাটতি রয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির অভাবও স্পষ্ট। এতে করে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে জেলা শহর বা ঢাকার হাসপাতালের দিকে ছুটতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরাইল উপজেলা হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেই নির্মাণকাজ এখন বন্ধ হয়ে আছে। ফলে নতুন ভবনের সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত এলাকাবাসী। বর্তমানে হাসপাতালের পুরোনো দোতলা ভবনেই সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা চালানো হচ্ছে।স্থানীয়ভাবে জানা যায়, সরাইল উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি বড় ও জনবহুল উপজেলা। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন এবং তাদের প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালটি প্রত্যাশিত মানের সেবা দিতে পারছে না।বাংলাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব হাসপাতালের মাধ্যমে মাতৃসেবা, শিশুচিকিৎসা, টিকাদান কর্মসূচি এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাব থাকলে এই সেবাগুলো ব্যাহত হওয়াই স্বাভাবিক।সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের মাধ্যমে সরাইল উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার দুর্বল চিত্রটি নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত হাসপাতালের শূন্য পদগুলো পূরণ করবে এবং বন্ধ হয়ে থাকা ভবন নির্মাণের কাজ আবার শুরু হবে। এতে করে এলাকার সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন এবং কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর