প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: প্রথম ধাক্কা খেতে পারে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ইউরোপ মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুত নিয়ে চলেছে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি বলছে, হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যেতে পারে। এর প্রভাব শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বাংলাদেশসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপের বিভিন্ন শহরের মধ্যে ফ্লাইট বাতিল শুরু হতে পারে। কারণ জেট জ্বালানির সরবরাহ কমে গেলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সামনে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের মৌসুম থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছে থাকে।ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেন, প্রথম ধাক্কা খাবে এশিয়ার দেশগুলো। কারণ এ অঞ্চলের অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তিনি বিশেষভাবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেন। এসব দেশে জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ও শিল্প খাতেও প্রভাব পড়তে পারে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহন খাতে। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় লন্ডনের শেয়ারবাজারে এয়ারলাইনস খাতে দরপতনের প্রবণতা দেখা গেছে। বিমান পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জেট জ্বালানির সরবরাহ কমে গেলে ইউরোপের কিছু বিমানবন্দরে দ্রুত সংকট তৈরি হতে পারে।এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল ইউরোপও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছে। তাদের মতে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কম খরচের জনপ্রিয় এয়ারলাইন রায়ানএয়ার জানিয়েছে, মে বা জুন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে কিছু বিমানবন্দরে জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়বে।আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ মূলত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সদস্য দেশগুলোকে সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেয়। অতীতেও বড় ধরনের জ্বালানি অস্থিরতার সময় সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়ে এসেছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিমান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়বে। তাই হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এখন পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বর্তমান সংকট দীর্ঘ হলে ইউরোপের বিমান চলাচল থেকে শুরু করে এশিয়ার জ্বালানি বাজার—সবখানেই চাপ বাড়বে। ফলে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের জন্য এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর