প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
কোচিং সেন্টার বন্ধের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর, কিন্ডারগার্টেনও আসছে নিবন্ধনের আওতায়
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশে কোচিং সেন্টার ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আর কোনো কোচিং সেন্টার চলতে দেওয়া হবে না এবং হঠাৎ গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেনগুলোও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।কুমিল্লায় মতবিনিময় সভায় ঘোষণাশনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।কোচিং সেন্টার নিয়ে কঠোর অবস্থানশিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কোচিং সেন্টার সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি।তার ভাষায়, “দেশে আর কোনো কোচিং সেন্টার চলতে দেওয়া হবে না।”তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, কোচিংয়ের মতো করে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কিন্ডারগার্টেন নিয়েও নতুন উদ্যোগমন্ত্রী জানান, যেসব কিন্ডারগার্টেন হঠাৎ করে গড়ে উঠেছে, সেগুলোকে এবার নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।তার মতে, শিক্ষা খাতে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হলে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।শিক্ষকদের উপস্থিতি ও জবাবদিহিতাসভায় তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত থাকছেন কি না, তার রেকর্ড রাখা হবে।যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক বা কাঠামোগত সংকট রয়েছে, সেখানে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়নশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আইপিএস বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাখা উচিত।তার মতে, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনশিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের কাজ চলছে।তিনি বলেন, এবার শুধু পাবলিক পরীক্ষা নয়, চাকরি পরীক্ষাসহ সব ধরনের পরীক্ষায় নকল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শিক্ষা খাতে নতুন দিক নির্দেশনাবিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।কোচিং নির্ভরতা কমানো এবং নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা নিশ্চিত করা এই নীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়াঅনেক শিক্ষক ও অভিভাবক মনে করছেন, কোচিং নির্ভরতা কমলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে বেশি মনোযোগী হবে।তবে কেউ কেউ বলছেন, সঠিক বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।উপসংহারশিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণাকে শিক্ষা খাতে একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোচিং সেন্টার বন্ধ এবং কিন্ডারগার্টেন নিবন্ধনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও মানোন্নয়ন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে—এই ঘোষণা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর