প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৩
আরব সাগরে শক্তিশালী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’, পশ্চিম উপকূলে বাড়ছে উদ্বেগ
ঢাকা প্রতিনিধি ||
আরব সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিপর্যয়’। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ভারতের পশ্চিম উপকূলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি অর্জন করতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত এবং সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে।ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে আঘাতের শঙ্কাআবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ১০ জুন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরব সাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় ঝড়টি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে এর গতিপথ নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি জরুরি হয়ে উঠেছে।এক আবহাওয়াবিদ বলেন, “সমুদ্রের উষ্ণতা যত বেশি থাকবে, ঝড় তত দ্রুত শক্তি পাবে। তাই পরিস্থিতি খুব সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”যেসব এলাকায় বেশি প্রভাব পড়তে পারেপ্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’-এর প্রভাবে ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় কয়েকটি রাজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
গুজরাট
মহারাষ্ট্র
কর্ণাটক
এসব এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।উপকূলীয় এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিবার ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমাদের এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। এবারও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ থাকার চেষ্টা করছি।”জেলেদের জন্য সতর্কবার্তাঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে পারে বলে গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে জেলেদের। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে চলাচলকারী ট্রলার ও জাহাজগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে গেলে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।বিশেষ করে মাছ ধরার ট্রলার, ছোট নৌযান এবং উপকূলীয় জেলেপল্লীগুলোকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।কীভাবে তৈরি হয় এমন ঘূর্ণিঝড়?বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের উষ্ণ পানি থেকেই মূলত ঘূর্ণিঝড়ের জন্ম হয়। যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন প্রচুর পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠে নিম্নচাপ তৈরি করে। পরে সেটি ঘুরতে ঘুরতে শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সাধারণত মে থেকে নভেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়গুলোর তীব্রতা বাড়ছে বলে মত দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।তাদের মতে, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুতিআবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলের কাছাকাছি চলে এলে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেমন—
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা
গাছপালা উপড়ে পড়া
ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি
নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে আগে থেকেই আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ভারতের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোও উপকূলীয় এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।এখন নজর ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথেবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’-এর প্রকৃত গতিপথ ও শক্তি আরও স্পষ্ট হবে। যদি এটি শক্তিশালী অবস্থায় স্থলভাগে আঘাত হানে, তাহলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।তবে আগাম সতর্কতা, সঠিক প্রস্তুতি এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরব সাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড় এখন শুধু আবহাওয়াবিদদের নয়, উপকূলীয় লাখো মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর