প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি তেল নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই: দেশীয় উৎপাদনেই মিটছে পেট্রল-অকটেনের বড় অংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মধ্যপ্রাচ্য সংকটেও দেশে জ্বালানির মজুদ স্বাভাবিক: পেট্রল-অকটেনের বড় অংশই দেশিনিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকামধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও, আশ্বস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিয়মিত আমদানির প্রক্রিয়া চলমান।আমদানিতে নেই বাধা, বন্দরে খালাস হচ্ছে তেলসংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে একটি জাহাজ থেকে বন্দরে তেল খালাস করা হচ্ছে এবং আগামী সোমবার আরও দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। চলতি মাসে মোট ১৪টি কার্গো আসার কথা, যার বেশিরভাগই পৌঁছেছে। আগামী মে মাস পর্যন্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।পেট্রল ও অকটেনে স্বয়ংসম্পূর্ণতাকর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় ১০০% এবং অকটেনের একটি বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়।উৎপাদন উৎস: দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত 'কনডেনসেট' প্রক্রিয়াজাত করে এই জ্বালানি তৈরি করা হয়।সক্ষমতা: সরকারি ইস্টার্ন রিফাইনারি ও বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন, যেখানে দেশে পেট্রল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা মাত্র ৮ থেকে ৮.৫ লাখ টন।কৃত্রিম সংকট ও প্যানিক বায়িংজ্বালানি বিভাগের মতে, প্রকৃত সংকটের চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো আতঙ্ক বা 'প্যানিক বায়িং'-এর কারণে পাম্পগুলোতে ভিড় বেড়েছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।ঘটনা: নাটোরের সিংড়ায় অবৈধভাবে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত করার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে প্রশাসন।বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে স্বস্তিফার্নেস অয়েল: বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বর্তমানে প্রায় ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েল মজুদ আছে।শিপিং রুট: হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চীনা জাহাজের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তেল পরিবহনে বড় ধরনের বাধার আশঙ্কা কম দেখছেন কর্মকর্তারা।সারসংক্ষেপ: জ্বালানি বিভাগ সাধারণ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছে, আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই। সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন থাকায় দ্রুতই পাম্পগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর