প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪
তেহরানে ইসমাইল হানিয়ার জানাজা ঘিরে উত্তেজনা, ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়ার জানাজা ঘিরে ইরানের রাজধানী তেহরানে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন, আর পুরো শহরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যাপক জনসমাগম।জানাজা শেষের পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কঠোর মন্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।তেহরানে জনসমুদ্র, নিরাপত্তায় ছিল কড়া নজরদারিজানাজার আয়োজনকে ঘিরে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ঢল নামে। ফিলিস্তিনের পতাকা ও হানিয়ার ছবি হাতে নিয়ে উপস্থিত জনতা ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তোলে।অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।জনসমাগমের মধ্যে উপস্থিত অনেকেই দ্রুত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।জানাজায় ইমামতি ও খামেনির বার্তাএই জানাজায় ইমামতি করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বক্তব্যে বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে অতিথি হিসেবে থাকা অবস্থায় ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এর “কঠোর জবাব” ইসরায়েলকে দিতে হবে এবং প্রয়োজনে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।তার এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে।কীভাবে ঘটেছিল হামলার ঘটনা?পটভূমি অনুযায়ী, হামাসের রাজনৈতিক শাখার শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া তেহরানে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বুধবার (৩১ জুলাই) ভোরে তার আবাসস্থলে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে তিনি এবং তার এক দেহরক্ষী নিহত হন।ঘটনার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।এখনো পর্যন্ত এই হামলার দায় নিয়ে সরাসরি কোনো পক্ষ প্রকাশ্যে সম্পূর্ণ দায়িত্ব স্বীকার করেনি, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার শঙ্কাআন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্তও বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।জনমত ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াতেহরানের জনসমাগমে উপস্থিত অনেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি জানান। তারা মনে করেন, এই ঘটনার উপযুক্ত জবাব না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র বলছে, সম্ভাব্য উত্তেজনার কারণে কয়েকটি দেশ তাদের আকাশপথ ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে সতর্কতা অবলম্বন করছে।উপসংহারতেহরানে ইসমাইল হানিয়ার জানাজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে। খামেনির কঠোর হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—এই উত্তেজনা কি কূটনীতির পথে থামবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোবে?
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর