প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬
খামেনি হত্যা ও ইরানে হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ইরানে হামলা ও খামেনি হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে জামায়াতের বিশাল বিক্ষোভনিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১ মার্চ, ২০২৬আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।রোববার (১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সমাবেশটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।ইরানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, "ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ইসলামের উত্থান যারা সহ্য করতে পারে না, তারা ইসরায়েলকে ব্যবহার করে দেশটিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।" তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়, তারা কীভাবে একটি স্বাধীন দেশে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে?তিনি অবিলম্বে এ ধরনের আগ্রাসন বন্ধে জাতিসংঘ ও ওআইসি-কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।সংসদীয় নিন্দা প্রস্তাবের দাবিকেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই ইরান নানা ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবি জানান।অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সহিংসতার প্রতিবাদসমাবেশে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অন্যদিকে, সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিলেও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে।চুয়াডাঙ্গায় কর্মী হত্যার বিচার দাবিসমাবেশ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।বিক্ষোভ মিছিলসমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর ও কাকরাইল মোড় প্রদক্ষিণ করে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর