প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বনানীতে হোটেল ‘মার্ভেল ইন’ ও শেরাটন’ ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ
হাবিব সরকার স্বাধীন ||
স্কর্ট সার্ভিসের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্যের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের জমি চুক্তিতেও অনিয়মের গন্ধরাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী—যেখানে কূটনৈতিক জোন, করপোরেট অফিস ও উচ্চমানের আবাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত—সেই এলাকাই এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। বনানীর ২৭ নম্বর রোডে অবস্থিত ‘মার্ভেল ইন’ এবং কথিত ‘কার্টুন শেরাটন’ নামের হোটেলকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক সেবার আড়ালে এখানে চলছে ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া ও “স্কর্ট সার্ভিস” নামে অনৈতিক কার্যক্রম।⚠️ অভিজাত এলাকায় অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগস্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে হোটেলটিতে রাতের বেলায় সন্দেহজনক নারী-পুরুষের যাতায়াত অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অতিথি আনা-নেওয়ার প্রবণতা চোখে পড়ছে বলে অভিযোগ।একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন:“আমাদের সন্তানরা এখানে বড় হচ্ছে। যদি আবাসিক হোটেলের আড়ালে অন্য কিছু চলে, এটি পুরো এলাকার নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য হুমকি।”???? সিটি করপোরেশনের জমি নিয়ে চুক্তিতে বড় অনিয়মের অভিযোগঅনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও গুরুতর তথ্য। বনানীর কাঁচাবাজার সংলগ্ন প্রায় ৬০ কাঠা সিটি করপোরেশনের জমিতে ২০০৬ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি হয়।চুক্তি অনুযায়ী:৩০% সম্পত্তি পাবে সিটি করপোরেশন৭০% পাবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠাননির্ধারিত সময়: ২০১০ সালের মধ্যে হস্তান্তর❗ অভিযোগ কী?নির্ধারিত ১৪ তলার পরিবর্তে ২৮ তলা ভবন নির্মাণসিটি করপোরেশনের প্রাপ্য সম্পদের মূল্য প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও করপোরেশন পায়নি তাদের অংশস্থানীয়দের প্রশ্ন: বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন অসম চুক্তি কীভাবে অনুমোদন পেল?চুক্তির সময় মেয়র ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা, যিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও পরিচিত।⚖️ আইনি দৃষ্টিকোণ: লাইসেন্স থাকলেই সব বৈধ নয়আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান—দালালচক্রের মাধ্যমে নারী সরবরাহ করেবাণিজ্যিক যৌন লেনদেনের সুযোগ দেয়জোরপূর্বক সম্পৃক্ততা ঘটায়তবে তা একাধিক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।প্রযোজ্য আইনসমূহ:দণ্ডবিধি ১৮৬০: ধারা ২৯৪, ৩৭২, ৩৭৩নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২আইনজীবীদের ভাষ্য:“ট্রেড লাইসেন্স থাকলেই প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম বৈধ হয়ে যায় না।”????️ হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবিহোটেল মালিকের বক্তব্য:প্রতিষ্ঠানের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স রয়েছেসিটি করপোরেশনের অনুমোদন আছেস্বল্প সময়ের ট্রানজিট অতিথি গ্রহণ হোটেল ব্যবসার অংশস্কর্ট সার্ভিস সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার???? পুলিশের অবস্থান: জিরো টলারেন্সবনানী থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান:অভিযোগ গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছেঅতিথি নিবন্ধন বই ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হতে পারেঅভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে???? বনানীর ভাবমূর্তি ঝুঁকিতেঅভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত বনানীতে এ ধরনের অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়—পুরো এলাকার সুনাম ও নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।স্থানীয়দের দাবি:???? অবিলম্বে তদন্ত???? অবৈধ কার্যক্রম প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল???? সিটি করপোরেশনের জমি চুক্তি পুনর্বিবেচনাবনানী কি অভিজাত এলাকার মুখোশের আড়ালে অনিয়ম ও অনৈতিক বাণিজ্যের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে—নাকি অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত?সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর