প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রভাব ও গুরুত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি এখন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেসরকারি ফল অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে যায়।গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী Time-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং সমাজে সৃষ্ট বিভাজন দূর করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি তিনটি অগ্রাধিকারের কথা বলেন—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করা। তাঁর ভাষায়, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে উন্নয়নও সম্ভব নয়।জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চ্যালেঞ্জদীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার পর দেশের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগ, মানবাধিকার ইস্যু ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থাহীনতা—সব মিলিয়ে নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় পুনর্মিলন ও আস্থা পুনর্গঠন। দেশে ফেরার পর থেকেই প্রতিশোধ নয়, বরং ঐক্যের বার্তা দিয়ে আসছেন তারেক রহমান। তাঁর মতে, প্রতিশোধ নয়—সংযম ও ঐক্যই পারে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে।অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকারগত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, বেকারত্ব ও আয় বৈষম্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হয়নি।বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের ও বেকারদের মাসিক নগদ সহায়তা প্রদান। পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, ব্যাংকিং খাত উদারীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তারেক রহমান।তিনি প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর দক্ষতা উন্নয়নের কথাও বলেছেন, যাতে তারা উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ পেতে পারেন। ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈদেশিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।সামনে পথচলাদীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বিভক্ত সমাজকে এক সুতোয় গাঁথা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও জনআস্থা অর্জনের মাধ্যমে তিনি কতটা সফল হতে পারবেন, সেটিই এখন দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নজরকাড়া প্রশ্ন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর