প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
সততা ও সেবায় প্রশংসিত সহকারী কমিশনার ফারহান লাবীব জিসান
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলে সেবার নতুন দৃষ্টান্ত, জনআস্থার কেন্দ্রে এসিল্যান্ড ফারহান লাবীব জিসানরাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলে ভূমি সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের কথা এখন মুখে মুখে। খারিজ, নামজারি, মিউটেশনসহ বিভিন্ন সেবা দ্রুত ও ঝামেলামুক্তভাবে পাওয়ার অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিবর্তনের পেছনে যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারহান লাবীব জিসান।দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি অফিস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ভূমি অফিস নিয়ে মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলে দাবি সেবা নিতে আসা নাগরিকদের।নিজের দায়িত্ববোধ ও কাজের দর্শন নিয়ে ফারহান লাবীব জিসান বলেন,
“প্রতিটি মানুষ তার কর্মগুণে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষের হৃদয়েই থাকতে চাই।”দ্রুত সেবায় কমেছে ভোগান্তিসেবা নিতে আসা অনেকেই জানিয়েছেন, আগে যেখানে একটি খারিজ বা নামজারির কাজ করতে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো, এখন তুলনামূলক দ্রুত সময়েই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।অফিস সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন নিয়মিত গণশুনানি, অনলাইনে নথি আপডেট এবং সেবাপ্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে গ্রাহকদের অপেক্ষার সময় কমেছে এবং কাজের গতি বেড়েছে।পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অফিসে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন।সেবা প্রার্থীদের অভিজ্ঞতাদক্ষিণখানের বাসিন্দা আব্বাস মিয়া বলেন,
“ছয় বছর আগে একটা খারিজ নথির জন্য কয়েকদিন ঘুরেছি। এবার স্যারের কাছে বলতেই খুব দ্রুত সমাধান পেয়েছি।”অকলিমা নামে এক নারী সেবা প্রার্থী বলেন,
“আগে দালাল ছাড়া কাজ হবে না—এমন ভয় ছিল। এখন নিশ্চিন্তে এসে নিজের কাজ নিজেই করতে পারছি।”খিলক্ষেতের রতন আলী জানান,
“তারিখ অনুযায়ী এসে কাজ পেয়েছি। বাড়তি কোনো টাকা লাগেনি।”কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার বাসিন্দা আমেনা বলেন,
“অনেকদিন ধরে সমস্যায় ছিলাম। এবার এসিল্যান্ড স্যারের সঙ্গে দেখা করেই সমাধান হয়েছে।”অফিস ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তনসংশ্লিষ্টরা জানান, অফিসে মাইকিং করে সেবা প্রার্থীদের নাম ডাকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অপেক্ষমাণ মানুষের জন্য সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়নও করা হয়েছে।অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার পর কাজের পরিবেশও ইতিবাচক হয়েছে। গ্রাহকসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় দায়িত্ব পালনে আগ্রহ বেড়েছে সবার মধ্যে।এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এখন কাজের জবাবদিহি বেড়েছে। সবাই চেষ্টা করছে দ্রুত ও সঠিকভাবে সেবা দিতে।”অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানশুধু অফিস ব্যবস্থাপনা নয়, মাঠপর্যায়েও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে। ভূমি অফিস সূত্র জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, আবাদি জমির মাটি কাটা এবং খাসজমি দখলের বিরুদ্ধে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন তিনি।খাসজমি উদ্ধারে কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও দালালনির্ভর সংস্কৃতি কমাতে নিয়মিত নজরদারি এবং প্রশাসনিক কঠোরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?বাংলাদেশে ভূমি সেবা নিয়ে মানুষের অভিযোগ নতুন নয়। দেরি, জটিলতা, দালালচক্র ও অতিরিক্ত খরচের কারণে সাধারণ মানুষ প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়েন। এমন বাস্তবতায় কোনো একটি অফিসে সেবার মান উন্নত হলে সেটি দ্রুত আলোচনায় আসে।জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, স্বচ্ছতা এবং সরাসরি গণশুনানির মতো উদ্যোগ জনগণের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।তবে তারা এটাও বলছেন, এই ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন টেকসই করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।‘জনসেবাই মূল লক্ষ্য’দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ফারহান লাবীব জিসান বলেন,
“গ্রাহক তার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই পাবে। যতদিন আমি ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলের দায়িত্বে আছি, দেশ ও জাতির স্বার্থে সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাব।”
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি সার্কেলে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের অন্যান্য ভূমি অফিসেও ছড়িয়ে পড়বে। কারণ নাগরিকবান্ধব প্রশাসনই পারে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর