প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
হাজীগঞ্জে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই বলছেন, ওই সময়ের পর কিছু এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে। এমনই একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের কচুয়া ও হাজীগঞ্জ এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার সাবেক এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে গাড়ি আটকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারসহ আশপাশের এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়িক জায়গা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছেন এবং সেখানে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বাজার এলাকার একটি বাণিজ্যিক জমি নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই এক পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।এছাড়া কিছু অভিযোগে বলা হয়েছে, অবৈধ মোটরসাইকেল ব্যবহার, অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার এবং মাদক সংশ্লিষ্ট কিছু চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা আদালতের রায় পাওয়া যায়নি।আরও অভিযোগে বলা হয়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য কিছু রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে এবং স্থানীয় কিছু গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। তবে এসব দাবিও মূলত স্থানীয়দের বক্তব্য ও মুখে শোনা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে উঠে এসেছে।এদিকে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে গেলে অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ জানান, ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপের কারণে তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে দাবি করা হয়।অন্যদিকে রাজনৈতিক দলের কিছু স্থানীয় নেতার নামও বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে, যেখানে বলা হচ্ছে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব এলাকায় অতীতেও রাজনৈতিক আধিপত্য ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় ইতিহাসে জানা যায়। কয়েকটি ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল, যা তখন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল। সেই পুরনো ঘটনাগুলোর প্রভাব এখনও এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করে বলে মনে করেন অনেকে।সব মিলিয়ে হাজীগঞ্জ ও কচুয়া অঞ্চলে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের একাংশ দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।
শেষ পর্যন্ত, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য সামনে আনতে এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর