প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, ফেসবুকের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বড় রায়
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর ধরে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে এ রায় দেওয়া হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ এ জরিমানার রায় দেন। তবে মেটার পক্ষ থেকে রায়টির বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।আদালতের শুনানিতে ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মেটা এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও ব্যবহারের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে।অভিযোগ অনুযায়ী, তৃতীয় পক্ষের কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য অনুমতি ছাড়া দেওয়া হয় না—এমন দাবি করা হলেও বাস্তবে তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ছিল। এ প্রসঙ্গে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির বিষয়টিও আলোচনায় আসে।নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেস বলেন, কোনো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোর প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ মেটার বিভ্রান্তিকর তথ্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত রাজ্য আইন ৪০ মিলিয়নেরও বেশি বার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা বিবেচনায় মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ২১৯ বিলিয়ন ডলার। তবে বিচারক সেই অঙ্ক কমিয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন।প্রতিবেদনে জরিমানাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জরিমানার রায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অঙ্ক মেটার এক প্রান্তিকের আয়ের কাছাকাছি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।মেটার প্রধান আইনজীবী সিজে মাহোনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় জরিমানার অঙ্ক ও রায়ের পরিণতি নিয়ে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।তবে আপিলের ঘোষণা থাকলেও আদালতের রায়টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সুরক্ষা, ব্যবহারকারীদের সঙ্গে স্বচ্ছতা এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে গুগলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা জোরদার করতে মেটা চলতি বছর বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে।প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা সুসান লির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এআই প্রকল্পে মেটার ব্যয় ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপুল বিনিয়োগের কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো নেতিবাচক নগদ প্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে।এ অবস্থায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের জরিমানার রায় মেটার আর্থিক পরিকল্পনা ও আইনি কৌশলের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আপিলের ফলাফল এবং জরিমানা কার্যকরের বিষয়টি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এখন প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন। ব্যবহারকারীরা কী তথ্য দিচ্ছেন, সেই তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে তা ভাগ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তবে এ মামলার চূড়ান্ত প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়, জরিমানার আইনি ভিত্তি এবং মেটার আপিলের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাশাপাশি, এআই খাতে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর