প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
ডিসেম্বরে প্রথমবার ইউএনও সম্মেলন, উন্নয়নের বাধা দূর করতে দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশে প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের আদলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নিয়ে সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরে সম্ভাব্য এ সম্মেলনে দেশের পাঁচ শতাধিক ইউএনও অংশ নিতে পারেন। এতে মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের বাধা, প্রশাসনিক সমস্যা ও সরকারি কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ ডিসেম্বর সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময় চাওয়া হয়েছে। তবে সম্মেলনের তারিখ ও ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র এবং বিকল্প হিসেবে ওসমানী উদ্যান বিবেচনায় রয়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, সরকারপ্রধানের সরাসরি দিকনির্দেশনা মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়াতে এবং উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সহায়ক হবে।রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রতি বছর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জেলা প্রশাসক সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে ডিসিরা সরকারের মন্ত্রী ও সচিবদের সামনে মাঠ প্রশাসনের সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন।একইভাবে ইউএনওদের নিয়ে সম্মেলন হলে উপজেলা পর্যায়ের সমস্যাগুলো সরাসরি সরকারের নীতিনির্ধারকদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোথায় জটিলতা হচ্ছে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে কী ধরনের বাধা রয়েছে এবং সেগুলো কীভাবে দূর করা যায়—এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে।গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় দেশের ইউএনওদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আদলে ইউএনও সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ওই সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবও উপস্থিত ছিলেন।সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিগুলো গুরুত্ব পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও প্রবাসী কার্ড।বিশেষ করে প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করার বিষয়ে প্রবাসী কার্ডের কার্যক্রম নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। এসব কর্মসূচি উপজেলা পর্যায়ে কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, কোথায় সমস্যা রয়েছে এবং সেবা মানুষের কাছে পৌঁছাতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন—তা আলোচনায় আসতে পারে।সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে স্থান পেতে পারে। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ লাগানো নয়, বরং গাছের পরিচর্যা ও টিকে থাকা নিশ্চিত করে কর্মসূচিকে কার্যকর করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এ ছাড়া খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কী ধরনের বাধা রয়েছে, কোথায় কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কী করা প্রয়োজন—এসব বিষয়েও ইউএনওদের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হতে পারে।সম্মেলনে উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয় ও সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোভূমি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক জটিলতাআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিউপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করাদ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকৃষি উন্নয়নধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষামাঠপর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করাইউএনওরা সরাসরি সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে স্থানীয় উন্নয়ন, প্রশাসনিক সমস্যা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলে তা তুলে ধরতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইউএনওদের যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা থাকতে পারে।তবে সম্মেলনের চূড়ান্ত আলোচ্যসূচি এখনো প্রস্তুত হচ্ছে। ফলে কোন কোন বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের সম্মেলনে কর্মকর্তারা উজ্জীবিত হন এবং কাজের গতি বাড়ে। মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। লিখিত প্রতিবেদনের পাশাপাশি সরকারপ্রধানও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি সমস্যার কথা শুনতে পারেন।তবে সব ইউএনওকে একসঙ্গে নিয়ে বৈঠক করলে তা অনেকটা জনসভার মতো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর পরামর্শ, কয়েকটি জেলা বা বিভাগভিত্তিক বৈঠক হলে সরকারপ্রধান ও ইউএনওদের মধ্যে যোগাযোগ আরও কার্যকর হতে পারে।তিনি আরও জানান, এরশাদ সরকারের সময় বিভাগ অনুযায়ী ইউএনওদের নিয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে সব ইউএনওকে একত্রে নিয়ে নয়।উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউএনওদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি মাঠের সমস্যা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতে পারে। তবে সম্মেলনের কার্যকারিতা নির্ভর করবে আলোচনায় উঠে আসা সমস্যাগুলোর সমাধানে কত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন কতটা নিয়মিতভাবে তদারক করা হয়, তার ওপর।একই সঙ্গে সব ইউএনওর বক্তব্য শোনার জন্য পর্যাপ্ত সময়, আলোচনার সুনির্দিষ্ট কাঠামো এবং সম্মেলন-পরবর্তী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। সম্মেলনটি এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে থাকায় চূড়ান্ত তারিখ, স্থান ও আলোচ্যসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়গুলো সম্ভাব্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর