প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৫
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন ইশতেহার তৈরিতে বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নেমেছে বিএনপি। দলটি বর্তমানে একদিকে যেমন নতুন ইশতেহার প্রণয়নের কাজ করছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা হালনাগাদ ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজও চলছে সমানভাবে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তকে ভিত্তি ধরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করেছে বিএনপি। পাশাপাশি ৩১ দফা কর্মসূচি ও আগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর সমন্বয়ও করা হচ্ছে নতুন পরিকল্পনায়।নেতারা বলছেন, এবার শুধু আন্দোলন বা রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং প্রার্থীদের যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও জনগণের গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। “ধানের শীষের” মনোনয়ন পেতে হলে মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে বলেও দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানান।বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়াকে বিএনপি তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। দলটির নেতাদের মতে, সংগঠন শক্তিশালী না হলে নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়।দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন সমাবেশে তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রচারণা শুরু করেছেন। তার একটি জনপ্রিয় স্লোগান “তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের জন্য হোক”— ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে জানা যায়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করাই বিএনপির এবারের অন্যতম প্রধান কৌশল। কারণ, গত দেড় দশকে দেশে বড় সংখ্যক তরুণ ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যারা প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন।দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ের সম্মেলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম একসঙ্গে চলছে। খুব শিগগিরই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সারাদেশে একাধিক অভ্যন্তরীণ জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এসব জরিপের ভিত্তিতে কিছু আসনে প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এবার প্রার্থী নির্বাচনে শুধু রাজনৈতিক আন্দোলনে ভূমিকা নয়, বরং মেধা, জনপ্রিয়তা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।অন্যদিকে দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বড় দলে প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক বিষয়। তবে মনোনয়ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি ১৯ দফা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল। তার আগের ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে দলটি ৩০টিরও বেশি অঙ্গীকার করেছিল। সেসবের কিছু বাস্তবায়িত হলেও অনেক প্রতিশ্রুতি নিয়ে তখন থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।
সব মিলিয়ে এবার নির্বাচনের আগে বিএনপি সাংগঠনিক পুনর্গঠন, ইশতেহার প্রণয়ন এবং প্রার্থী বাছাই—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে সামনে রেখে এগোচ্ছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, একটি সুসংগঠিত প্রস্তুতিই তাদের নির্বাচনী সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর