প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রধান শিক্ষকের পুনর্বহাল নিয়ে সংঘর্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আহত ১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলমের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।আহতদের মধ্যে ১২ জনকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে এবং একজনকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে ফিরতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে সেখানে উত্তেজনা চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম। ওই সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র লিখে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।দীর্ঘ সময় পর শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রধান শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নেয়। গত মাস থেকে তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন ও কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ও ঘেরাও করা হয়।পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসন প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বিদ্যালয়ে ফেরার নির্দেশ দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে স্থানীয় একটি পক্ষের বাধার কারণে তিনি বিদ্যালয়ে ফিরতে পারছিলেন না। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাঁকে মারধর করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ সময় শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আহত হন।খবর পেয়ে আদিতমারী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনোয়ারুল, হামিদুল, সিয়াম ও সামিউল এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবেলসহ মোট ১৩ জন।আহত শিক্ষার্থী মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগে বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝতে না পেরে তাঁরা প্রধান শিক্ষকের বিরোধিতা করেছিলেন। পরে তাঁকে ছাড়া বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে মনে হওয়ায় পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন।মনোয়ারুলের অভিযোগ, মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে এলে ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগত এসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তিনি প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহাল এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পক্ষ তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছিল। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে গেলে ৪০ থেকে ৫০ জন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।রশিদুল আলমের ভাষ্য, তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।তবে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর