নিজস্ব প্রতিবেদক ||
পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ালে চোখে পড়ে সবুজের বিস্তার, দূরে পাহাড়ের সারি, মেঘের ভেলা আর গভীর খাদ। কোথাও ঝিরি-ছড়া, কোথাও ঝরনার কলকল শব্দ। বান্দরবানের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই পর্যটন ব্যবসার সবচেয়ে বড় পুঁজি। কিন্তু সেই সৌন্দর্যকে ঘিরেই পাহাড়ের চূড়া ও ঢালে গড়ে উঠছে একের পর এক রিসোর্ট, কটেজ ও মাচাংঘর। অনেক স্থাপনার নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে ‘ইকো’ শব্দটি। অথচ পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ধারণার সঙ্গে এসব স্থাপনার বাস্তব চর্চার বড় ধরনের ফারাকের অভিযোগ রয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অনেক জায়গায় প্রাকৃতিক ঢাল কেটে রাস্তা ও স্থাপনার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। কোথাও পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ মাচাংঘর। অনেক স্থাপনায় পরিকল্পিত বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে সেই প্রকৃতির ওপরই বাড়ছে চাপ।পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও মাচাংঘর গড়ে উঠেছে। অথচ জেলা প্রশাসনের হিসাবে অনুমোদিত হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা ৭৯। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ৩২টির। জমির মালিকানা, স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা—সব মিলিয়ে পর্যটন খাতের একটি বড় অংশের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় পাহাড়ের চূড়া ও ঢালে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের পর্যটন স্থাপনা। কোথাও ইট-কংক্রিটের ভবন, কোথাও বাঁশ-কাঠ-ছনের কটেজ, আবার কোথাও সামান্য জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে টংঘর।প্রাকৃতিক দৃশ্য ভালো দেখা যায়—এমন পাহাড়ের চূড়া ও ঢালই রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের প্রধান আকর্ষণ। অবস্থান ও সুযোগ-সুবিধাভেদে এসব কটেজের রাতপ্রতি ভাড়া পাঁচ হাজার থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাঁশ, ছন ও টিনের ছোট মাচাংঘরের ভাড়া ১ হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।এভাবে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বড় বাণিজ্যিক কার্যক্রম। কিন্তু পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব, পাহাড়ের স্থিতিশীলতা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।রিসোর্টের সংখ্যা ও অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের তথ্যে বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে জেলায় পাঁচ শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও মাচাংঘর রয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের হিসাবে অনুমোদিত হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা ৭৯। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে ৩২টি।লামার মিরিঞ্জা এলাকায় রিসোর্টের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। মিরিঞ্জা ভ্যালি রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমান বলেন, এলাকায় প্রায় ৮৯টি রিসোর্ট রয়েছে। এর অনেকগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে। তবে অনেকের পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন কিংবা ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই।লামা রিসোর্ট মালিক সমিতির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন রফিক বলেন, ‘এখানে মোট কতটি রিসোর্ট বা কটেজ রয়েছে, তার হিসাব আমাদের কাছেও নেই। সমিতি থাকলেও কেউ কারও কথা শুনছে না।’স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো উদ্যোক্তার কাছে জমির কাগজপত্র ও বিভিন্ন দপ্তরে করা আবেদনের কপি থাকলেও সব প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন, কোথাও ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স—এসব নথির ভিত্তিতে ব্যবসা চললেও তা সব ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের বিকল্প কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, নিয়মকানুন এড়িয়ে প্রভাব খাটিয়ে বা সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নথি ও অনুমোদন আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।রিসোর্ট নির্মাণে পাহাড়ি জমির ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, মিরিঞ্জা এলাকার অনেক জমি বিভিন্ন সময়ে রাবার প্লান্টেশন বা হর্টিকালচারের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে। পরে কোনো কোনো জায়গায় জুমঘর বা ছোট কাঠামো নির্মাণ করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।অভিযোগ রয়েছে, কিছু জায়গায় লিজের শর্ত ও জমির নির্ধারিত ব্যবহার উপেক্ষা করে পর্যটন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। কোথাও খাস পাহাড় দখল করেও রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন জমি কী উদ্দেশ্যে লিজ দেওয়া হয়েছিল, লিজের শর্ত কী ছিল এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনার অনুমোদন রয়েছে কি না—তা নথিপত্র যাচাই করে নির্ধারণ করা জরুরি।পরিবেশবিদ উয়ই সিং বলেন, পাহাড় কাটা, গাছ কাটা এবং ঝিরি-ছড়া ভরাটের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। রিসোর্টের বর্জ্য নদী-নালা ও ঝিরিতে মিশে পানি দূষিত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের বান্দরবান শাখার সভাপতি জুয়ামলিয়ান আমলাই বলেন, গত কয়েক বছরে বড় বড় পাহাড়ের চূড়ায় একের পর এক ‘ইকো’ নামের রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। অনেকগুলোর পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই বলে তাঁর দাবি।তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে কটেজের নামে পাহাড়ি এলাকা অপরিকল্পিতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ জন্য দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন।পরিবেশবান্ধব পর্যটনের মূল ধারণা হলো প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করা। সে বিবেচনায় কোনো স্থাপনার নামের সঙ্গে ‘ইকো’ যুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়; পাহাড়ের ভূপ্রকৃতি সংরক্ষণ, গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানির উৎস দূষণমুক্ত রাখার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।রিসোর্টগুলোর বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। অনেক স্থাপনায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও খাবারের প্যাকেট পড়ে থাকছে পাহাড়ের ঢাল, খাদ ও ঝিরির পাশে। কোথাও বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।লামার ইয়াংছা পাড়ার বাসিন্দা মংচিং মার্মা জানান, রিসোর্টের বর্জ্য ঝিরি ও ছড়ায় গিয়ে পড়ায় তাঁদের একমাত্র পানির উৎস দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে বাধ্য হয়ে সেই পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।পাহাড়ি এলাকার অনেক বাসিন্দার দৈনন্দিন জীবন ঝিরি, ছড়া ও প্রাকৃতিক পানির উৎসের ওপর নির্ভরশীল। এসব উৎস দূষিত হলে শুধু পরিবেশ নয়, স্থানীয় মানুষের নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই পর্যটন স্থাপনার বর্জ্য কোথায় ও কীভাবে ফেলা হচ্ছে, তা নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।মিরিঞ্জাসহ নতুন পর্যটন এলাকাগুলোর অনেক রিসোর্ট ও কটেজ কাঠ, বাঁশ, ছন ও টিন দিয়ে তৈরি। কিন্তু এসব স্থাপনার অনেকগুলোতে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের উপযোগী সড়কও অনেক স্থানে নেই।বান্দরবান জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল মান্নান আনসারী বলেন, জেলায় ঠিক কতটি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, তার সঠিক তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তবে প্রায় ৬০টি হোটেল-রিসোর্ট ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নবায়ন করেছে।তিনি বলেন, কাঠ, বাঁশ, ছন ও টিনের অনেক কটেজে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। দুর্গম পাহাড়ে অগ্নিনির্বাপণ যান চলাচলের উপযোগী সড়ক না থাকায় আগুন লাগলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।পর্যটন স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পর্যটক, কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে সরু রাস্তা, পাহাড়ি ঢাল এবং দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার উপযোগী বিকল্প পথ না থাকলে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকে।পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব বলেন, জেলায় ৩২টি রিসোর্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়েছে। তবে আইনি কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি রিসোর্টগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।এদিকে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, বান্দরবানে পর্যটন করপোরেশন বা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আলাদা স্থানীয় কার্যালয় নেই। ফলে হোটেল-রিসোর্টের বিষয়গুলো জেলা প্রশাসন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ দেখভাল করে।জেলা প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৭৯টি হোটেল ও রিসোর্ট অনুমোদন নিয়েছে। বাকি হোটেল-রিসোর্টগুলোকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার জন্য অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।তবে অনুমোদনহীন স্থাপনাগুলোর বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, পরিবেশগত ক্ষতি কীভাবে যাচাই করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না নিলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির আলোকে ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে স্থানীয় পর্যটন খাত হস্তান্তর করা হয়। তবে এক যুগ পেরিয়ে গেলেও পর্যটন স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনায় জেলা পরিষদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে।অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাম্যাচিং। তবে পর্যটনশিল্পের বিকাশে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা স্বীকার করেন জেলা পরিষদ সদস্য লুসাই মং মারমা।তিনি বলেন, পর্যটনশিল্পের প্রসারে বিদ্যমান বাধা দূর করতে প্রশাসন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে জেলা পরিষদ।পর্যটন খাতের কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য কোন কর্তৃপক্ষ কোন বিষয়ে অনুমোদন দেবে, কে নিয়মিত পরিদর্শন করবে এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে কে ব্যবস্থা নেবে—এসব দায়িত্ব স্পষ্ট করা প্রয়োজন। দায়িত্বের বিভাজন ও সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে অনুমোদন, পরিবেশ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা তদারকিতে দুর্বলতা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বান্দরবানের পর্যটন খাত স্থানীয় কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও আয়ের সুযোগ তৈরি করছে। কিন্তু এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ধরে রাখতে হলে পাহাড়ের পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা সুরক্ষিত রাখা জরুরি।এ জন্য রিসোর্ট ও কটেজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি, জমির মালিকানা ও লিজের শর্ত যাচাই, প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা, পাহাড় কাটার ওপর নজরদারি, বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা এবং অগ্নিনিরাপত্তা যাচাইয়ের মতো পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।পর্যটন ব্যবসার প্রসার যেন পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের কারণ না হয়, সে জন্য পরিবেশগত সীমা ও নিরাপত্তার শর্ত মেনে স্থাপনা নির্মাণ এবং নিয়মিত তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।