প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৫
খিলক্ষেতে মসজিদ ও মন্দিরের জন্য রেলের জমি বরাদ্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় দুটি মসজিদ ও একটি মন্দিরের জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। জোয়ার সাহারা মৌজায় এই জমি বরাদ্দকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৭ আগস্ট) রেলভবনে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও মন্দির পরিচালনা কমিটির কাছে বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়। প্রতীকী মূল্যের বিনিময়ে এই জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।বরাদ্দপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে খিলক্ষেত রেলওয়ে জামে মসজিদ, আন-নূর জামে মসজিদ এবং খিলক্ষেত সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির। নির্ধারিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ ও মন্দির মিলিয়ে প্রায় আধা একরের বেশি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও কমিটির সদস্যরাও এতে অংশ নেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, অতীতে রেলের জমি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, এসব জায়গায় অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবহার নিয়ে জটিলতা থাকলেও পরে তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। তবে মাঝে মাঝে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে, যা দেশের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতির চিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি বা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড হলে তা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বাংলাদেশ রেলওয়ের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জমি বরাদ্দ একটি দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
সব মিলিয়ে খিলক্ষেতে রেলওয়ের এই জমি বরাদ্দকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত জটিলতারও একটি সমাধান হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর