প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের পরিচয় হবে বাংলাদেশি—এমন একটি রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য বা বিভেদের শিকার হতে হবে না।শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা সত্ত্বেও সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি। প্রত্যেকে সমান মর্যাদা নিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচবেন এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন।তিনি বলেন, নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে যেন কেউ বৈষম্যের শিকার না হন, সে লক্ষ্যেই একটি মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।মাহদী আমিন আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সরকারি সহায়তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।মাহদী আমিন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, সরকার তা প্রত্যাশা করে।মহালয়া উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া নতুন আশার আলো এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা বহন করে। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এ উৎসবের মূল শিক্ষা।তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন। সমাজের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তাঁর ভাষায়, এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই দেশের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সামগ্রিক জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেন এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের সাফল্য প্রত্যাশা করেন।গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মহালয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায়সহ অন্যরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর