প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৫
ফায়দাবাদে জমি দখল ও অবৈধ ব্যবসা নিয়ে এলাকাবাসীর গুরুতর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজধানীর ঢাকা-১৮ আসনের উত্তরা ও দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ চৌরাস্তা এলাকায় জমি দখল, অবৈধ চুল কারখানা এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল এই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দখল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, ফায়দাবাদ চৌরাস্তা এলাকায় বেশ কিছু জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দারুস সালাম জামে মসজিদ সংলগ্ন কিছু জমি ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে দখল করা হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের নামে স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক অবৈধ চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় বিদেশ থেকে চুল আমদানি করে বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য তৈরি করা হয় বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, ভ্যাট, ট্রেড লাইসেন্স বা পরিবেশগত অনুমোদন নেই।
স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, এসব কারখানার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়, যার একটি অংশ অবৈধ পথে বিদেশে পাঠানো হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে জমি কিনে বড় বড় ভবন ও শিল্প স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস কী এবং কীভাবে এত দ্রুত সম্পদের বিস্তার ঘটেছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কিছু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মী একসঙ্গে কাজ করেছে। তবে এসব বিষয়ে কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব শিল্পকারখানায় শিশু শ্রমের ব্যবহারও রয়েছে। পাশাপাশি রাসায়নিক ব্যবহার নিয়েও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে, যেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও পরিবেশগত নিরাপত্তা মানদণ্ড মানা হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব অনিয়মের কারণে এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ন্যায্য বিচার পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্ত সংস্থা বা সরকারি পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এলাকাবাসী দাবি করছেন, সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ ব্যবসা, জমি দখল এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হোক। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে ফায়দাবাদ চৌরাস্তা এলাকার এই পরিস্থিতি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি এখনো অভিযোগ পর্যায়ে থাকায়, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর