প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৫
নারী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ, সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ইদ্রাকপুর স্কুলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অভিভাবকদের ক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতিঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ইদ্রাকপুর জাতীয় আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সোয়ারাপ হোসেনের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণির কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকের আচরণে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ভুগছে। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি একাধিকবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায় থাকবে—এ প্রশ্ন এখন তাদের সামনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করতে বাধ্য হবেন।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টি মান্দারতলা, গয়েশপুর, ধানহারিয়া, আলিপুর, কালিপুর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে চললেও সাম্প্রতিক অভিযোগে সেই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।অভিভাবকদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা ও বৈঠক হলেও দৃশ্যমান কোনো সমাধান আসেনি। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা কমে গেছে।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সোয়ারাপ হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয়দের আরেকটি অংশ বলছে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা মনে করেন, সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তবে একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিভাবকদের একটি অংশ দাবি তুলেছেন, দ্রুত তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা মনে করেন, এমন ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে।শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো অভিযোগই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি স্বচ্ছ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা থাকা দরকার, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আস্থা রাখতে পারেন।
সব মিলিয়ে ইদ্রাকপুর জাতীয় আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘিরে চলমান পরিস্থিতি এখন প্রশাসনিক মনোযোগের দাবি করছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই তিনটি বিষয়েই এখন সবার নজর।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর