প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও মজুদ ছাড়ায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি বাড়া এবং জি-৭ দেশগুলোর জরুরি মজুদ থেকে জ্বালানি বাজারে ছাড়ার ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও বাজারে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৬ সেন্ট বা ০.৬৫ শতাংশ কমে ১০১.৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৫ সেন্ট বা ১.০৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০.১২ ডলারে দাঁড়ায়।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।চলমান সংঘাতের কারণে তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলেও বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে দামের চাপ কমার প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে।তেলের বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য দামের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে সংঘাতের মধ্যেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়াতে জি-৭ দেশগুলো তাদের জরুরি মজুদ থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের পর গত শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বিশ্ববাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হলে দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে জি-৭-এর মজুদ ছাড়ার ঘোষণা বাজারে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে।জি-৭ দেশগুলো জ্বালানি রপ্তানিতে নতুন করে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করার অঙ্গীকারও করেছে।বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, মজুদ থেকে তেল ছাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমাতে পারে। এর প্রভাব পড়েছে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামেই।তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত চলতে থাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকবে, সেটিই এখন বাজারের অন্যতম বড় প্রশ্ন।আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হয়। এর প্রভাব পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের উৎপাদন ব্যয়সহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে।তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেই স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিক কমবে—এমনটি নয়। আমদানি ব্যয়, কর-শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, মুদ্রার বিনিময় হার এবং স্থানীয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার মতো বিষয়ও এতে প্রভাব ফেলে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর